মাগুরায় লুটকৃত স্বর্ণের বার ভাগাভাগি নিয়েই খুন হয় যুবদল নেতা শাকের

মাগুরায় আলোচিত স্বর্ণ ডাকাতি এবং মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেন (৩৬) হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। গতকাল ও আজ জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের টানা অভিযানে দুই চাঞ্চল্যকর মামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ মোট ৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৫২ ভরিরও বেশি লুণ্ঠিত ও উদ্ধারকৃত সোনা, দুটি মোটরসাইকেল, একটি প্রাইভেটকার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গুলির আলামত।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে সংঘটিত স্বর্ণ ডাকাতি এবং পরবর্তীতে বাস টার্মিনালে যুবদল নেতা শাকেরকে গুলির ঘটনাটি একে অপরের সঙ্গে গভীর প্রকাশ্য ও পরোক্ষভাবে যুক্ত।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় গত- ৬ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাগুরা সদর থানাধীন রামনগর বাজার এলাকা থেকে ‘গোল্ডেন লাইন’ বাসে ওঠার সময় পুলিশ পরিচয়ে মো জাহিদুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। তাকে নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তার সঙ্গে থাকা ১ ভরি ৭ আনা ওজনের তেজাবী সোনার বার এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় চক্রটি।

এ ঘটনায় ২৮ অক্টোবর সদর থানায় মামলা একটি (নং-৬৩) দায়েরের পর অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। এ মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. জুয়েল হোসেন (৩৭), তৌহিদ আহমেদ (২৫), মো. ফরিদ মণ্ডল (৫৯), মো. মিলন মোল্যা (৩৫), মারুফা আকতার (৩২), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) এবং মো. মারুফ হোসেন (৪৪)। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত সোনার বার, দুটি মোটরসাইকেল এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি সিলভার রঙের টয়োটা কার জব্দ করা হয়।

ডাকাতির ঘটনার তদন্ত চলাকালেই গত ২১ অক্টোবর ভোরে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ‘রয়েল এক্সপ্রেস’ কাউন্টারে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন যুবদল নেতা শাকের হোসেন। হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে তাঁর মাথায় গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারিমা হাছান রমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা (নং-৪৯) করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব খায়রুল হাসান এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই মামলার ৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রনি শিকদার (৩৮), শামীমা তাবাসসুম (৩১), অনিমেষ মজুমদার (৫৫), মো. মারুফ হোসেন (৪৪), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) এবং বশির আলী (৩৫)।

পুলিশ ঘটনাস্থল ও আসামিদের কাছ থেকে পিস্তলের বুলেট, খালি কার্তুজ এবং ৫১ ভরি ৯ আনা (৬০৫.৬৬ গ্রাম) সোনা উদ্ধার করে।

জানানো হয়, উভয় মামলার আসামি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে মাগুরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। জবানবন্দিতে তিনি সোনা চোরাচালান চক্রের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন।

পুলিশ সুপার জানান, স্বর্ণের চালান ছিনতাই ও লেনদেন কেন্দ্রিক বিরোধের জের ধরেই যুবদল নেতা শাকেরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : টাঙ্গাইলে যাত্রীবাহি বাসের লাগেজ থেকে ৩০ কেজি গাঁজাসহ ৪ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন