সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা নিজের করে নিয়েছেন পেসার হাসান মাহমুদ। ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেটের মাইলফলক পেরিয়ে নিয়েছেন ৬ উইকেট। তবে হাসানের এমন দুর্দান্ত বোলিংয়ের দিনেও ব্যাট হাতে স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে করা ৩৫৬ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে ৮৮ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা। ফলে এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসের পর ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে ১০৬.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৩৫৬ রান সংগ্রহ করে। ক্যারিবীয়দের ইনিংসে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন আমির জ্যাঙ্গো। ২১২ বলে ১৩ চার ও ২ ছক্কায় ১৩৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। বাংলাদেশের বোলারদের দীর্ঘ সময় ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটার।
তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন কেভিন উইকহ্যাম। ১৪৫ বলে ৬১ রান করেন তিনি। এ ছাড়া জাস্টিন গ্রিভসের ব্যাট থেকে আসে ১১২ বলে ৫১ রান। শেষদিকে জশুয়া বিশপ ২৩, জোমেল ওয়ারিকান অপরাজিত ২৭ এবং শামার জোসেফ ১৬ রান করলে ৩৫০ পেরিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল হাসান মাহমুদ। ২৪ ওভার বল করে ৯০ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। পাঁচটি ভিন্ন দেশে পাঁচবার পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেয়ার রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি দেশের মাটিতেও প্রথমবার এই কীর্তি গড়লেন ডানহাতি এই পেসার। তাসকিন আহমেদ নিয়েছেন ২ উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজের শিকারও ২ উইকেট।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। ২২ রানেই হারায় দুই ওপেনারকে। তানজিদ হাসান ৩৩ বলে ১৬ রান করে জাস্টিন গ্রিভসের বলে আউট হন। আর নাইম হাসান ৬ বলে ৫ রান করে জেইডেন সিলসের শিকার হন। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৬৫ বলে ১৮ রান করে শামার জোসেফের বলে বোল্ড হলে ৫১ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়েছেন তাওহিদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিম। চতুর্থ উইকেটে এখন পর্যন্ত ৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন দুজন। ৮০ বলে ২৯ রান নিয়ে অপরাজিত হৃদয়। অন্যদিকে ৫৬ বলে ১৯ রান করে তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন মুশফিক। দিনের শেষ দিকে এই জুটিই বাংলাদেশকে আরও বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসাররা দিনভর নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন। জেইডেন সিলস, শামার জোসেফ ও জাস্টিন গ্রিভস নিয়েছেন একটি করে উইকেট। স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান ১২ ওভার বল করে ৫ মেডেনসহ মাত্র ১৯ রান দিয়েছেন, যদিও কোনো উইকেট পাননি।
দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৪০ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৮ রান। রানরেট ২.২০। এখনো ব্যাটিংয়ে নামার অপেক্ষায় আছেন শাদমান ইসলাম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম। তবে শাদমানের গোড়ালির চোটের এমআরআই পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যাওয়ায় তার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পড়ুন : হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটের আগুন বোলিংয়ে ৩৫৬ রানে থামল ওয়েস্ট ইন্ডিজ


