জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিশেষ কুচকাওয়াজে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৭ নভেম্বর) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে চমৎকার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের বিশেষ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ৩ হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য অংশ নিচ্ছেন। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত রয়েছেন।
এদিকে, দিবসটি স্মরণীয় করে রাখতে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গত ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত। শনিবার সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের সব দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের সূচনা হয়।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সাথে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন তিনি।
বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিশাল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করবে বিএনপি। এতে পায়ে হেঁটে নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শোভাযাত্রাটি কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে দিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় অতিক্রম করবে। এরপর বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে তা শেষ হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে এই বিশাল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন। কর্মসূচিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, মহানগর ইউনিট এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেবেন। ঢাকা ছাড়াও দেশের সকল জেলা ও মহানগর পর্যায়ে একই ধরনের শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আলোচনাসভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ নানা কর্মসূচি চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব এস এম জাহাঙ্গীর জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির কারণে আয়োজনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে কর্মীরা উন্মুখ হয়ে আছেন। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন জানান, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের সাথে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে শোভাযাত্রার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ওই দিন সিপাহি-জনতার ঐক্যের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকারবিরোধী শক্তির চূড়ান্ত পরাজয় ঘটেছিল। একই সাথে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন ভবিষ্যৎ নির্মাণের ওপর জোর দেন তিনি।
পড়ুন :
সা/


