নরসিংদীতে চাঞ্চল্যকর আব্দুল্লাহ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ‘আবু লাল’ হবিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

নরসিংদী সদর মডেল থানার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও চিহ্নিত অপরাধ চক্র ‘আবু লাল গ্রুপের’ প্রধান আবু লালকে (৪০) হবিগঞ্জ জেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। আজ শনিবার দুপুরে থানার মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপরাধ আশিকুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৩ অক্টোবর নরসিংদী শহরের চৌয়ালায় আব্দুল্লাহ হত্যা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আবু লাল পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ও সদর থানা এলাকা এবং ঢাকার ধানমন্ডি থানা এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ তল্লাশির পর অবশেষে শুক্রবার রাতে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানা এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামির দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে, গত ২ অক্টোবর আব্দুল্লাহ ওরফে বাবুকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মলেন অস্ত্র আইনে আরেক মামলা রজু করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন সূত্রে আরো জানাযায়, নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো: আব্দুল্লাহ-আল-ফারুক, বিপিএম-সেবার দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), ওসি সদর মডেল থানা ও ওসি ডিবি-র প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। ডিবি পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর মো: সাদেকের রহমান ও সাব-ইনস্পেক্টর মো: সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে কনস্টেবল শামসুল ইসলাম, কনস্টেবল শিবুল মিয়া ও কনস্টেবল জুনায়েদ সিকদার অংশ নেন।

এছাড়া নরসিংদী মডেল থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইনস্পেক্টর (নিরস্ত্র) বাবুল মিয়া এই কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। পেশাদারিত্ব ও সুকৌশলী অবস্থানের কারণে বারবার স্থান পরিবর্তন করেও শেষ রক্ষা হয়নি আসামির।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাকে দ্রুত আদালতে সোপর্দ করা হবে। মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান। জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

নরসিংদী জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র ও গোষ্ঠীগত সহিংসতার বিরুদ্ধে পুলিশ “শূন্য সহনশীলতা” নীতিতে অটল রয়েছে। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর।

পড়ুন : গ্রাম পুলিশের বেতন ও অবসরকালীন ভাতা বাড়াল সরকার

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন