নোবিপ্রবির বিরুদ্ধে জমি দখলের পাঁয়তারার অভিযোগে মানববন্ধন

সুপ্রিম কোর্টে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় জমি দখলের পাঁয়তারা ও উচ্ছেদের উদ্যোগের প্রতিবাদে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের ৯৩ নম্বর চর সল্লা এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী জিয়াউর রহমান শিমুল, আনোয়ারুল হক সেলিম, নুরুল আলম, ফাতেমা বেগম ও বিবি হাজেরাসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, তাঁদের পৈতৃক ও খতিয়ানভুক্ত মালিকানাধীন ভোগদখলীয় জমি অধিগ্রহণের পর জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা করছে নোবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ। এ জমি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় দখলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখার দাবি জানান তাঁরা।

বক্তারা আরও জানান, জমি নিয়ে তাঁরা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করলে জেলা প্রশাসন উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে শুনানি করে। শুনানি শেষে জেলা প্রশাসক সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে যে যার অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেন বলে দাবি তাঁদের।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাঁদের কোনো ধরনের নোটিশ না দিয়ে কিংবা যোগাযোগ না করেই গত শনিবার থেকে জমি থেকে উচ্ছেদের জন্য মাইকিং করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন তাঁরা। উচ্ছেদ করা হলে তাঁদের আশ্রয় নেওয়ার মতো বিকল্প কোনো জায়গা নেই বলেও জানান তাঁরা।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি অধিগ্রহণে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই বলে জানান ভুক্তভোগীরা। তাঁদের দাবি, বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী জমির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পরিশোধ এবং পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে। যাতে তাঁরা পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে অন্যত্র বসবাসের ব্যবস্থা করতে পারেন।

এ বিষয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ একর জমির মধ্যে ১ একর ৩৩ শতাংশ জমির দখল নিয়ে জটিলতা রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে গেজেট প্রকাশ এবং ২০২১ সালে রিট পিটিশন খারিজ হওয়ার পর জমিটি নিয়ে আইনগত কোনো বাধা নেই।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে ওই জমিতে একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণে সবার সহযোগিতা কামনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই জমিতে বর্তমানে যারা বসবাস করছেন, তাঁদের জন্য সরকারি কোষাগারে ক্ষতিপূরণের টাকা জমা রয়েছে। তাঁরা যেকোনো সময় সেই ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ধামরাইয়ে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন