গোপালগঞ্জে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সুখেই কাটছিল গৃহবধু পলি বেগমের জীবন। পরিবারের বড় ছেলে হৃদয় শেখ (২০) দু’বছর আগে ভাগ্যের অন্বেষণে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজে পাঠায় সিলেট।ছেলেটি সেখানে গিয়ে হয়ে পড়েন মাদকাসক্ত। চলে আসে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার নিজ বাড়ীতে। এরপর থেকেই মাদকাসক্ত হয়েই চলছে তার জীবন। নেশার তাড়নায় টাকা চেয়ে না পেয়ে ছোটভাই কে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে হৃদয়। এরপর হৃদয়ের মা নিজেই বাদী হয়ে পুলিশে দেন ছেলেকে।
হৃদয় শেখ কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ ইউনিয়নের তারাশী গ্রামের শহিদুল শেখের ছেলে। শহিদুল পেশায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। থাকেন পটুয়াখালীতে। মাদকাসক্ত হৃদয় ও তার ছোট ভাই স্বাধীন শেখ (১৭) কে নিয়ে বাড়িতে থাকেন মা পলি বেগম।
ছোট ছেলে স্বাধীন স্থানীয় একটি সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যায়নরত। অপরদিকে কোন কাজকর্ম না করে ভবঘুরের মত ঘুরে বেড়ান হৃদয়। প্রতিনিয়িত পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা নিয়ে করেন মাদক সেবন।টাকা না দিলেই শুরু হয় বাড়ির আসবাবপত্র ভাংচুর। টাকার জন্য কয়েকবার মা-বাবাসহ ছোট ভাইকে মারধোর করেছে বলে জানিয়েছেন পলি বেগম।
গত কয়েকদিন আগে মাদক ক্রয়ের জন্য টাকা চেয়ে না পেয়ে ছোট ভাই স্বাধীনকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় হৃদয় শেখ।

এ ঘটনার পর গোপালগঞ্জে গতকাল বুধবার (১৯ মার্চ) রাতে হৃদয় বাড়িতে আসলে পলি বেগম থানা পুলিশকে খবর দেয়। কোটালীপাড়া থানা পুলিশ পলি বেগমের বাড়িতে গেলে মাদকাসক্ত নিজ ছেলেকে তিনি পুলিশের হাতে তুলে দেন।
ওই রাতেই মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মা পলি বেগম কোটালীপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পলি বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছেলে হৃদয়কে নিয়ে পরিবারে চরম অশান্তি বিরাজ করছিলো। আমরা অনেক চেষ্টা করেও মাদকের হাত থেকে তাকে ফেরাতে পারি নাই। তাই বাধ্য হয়ে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করেছি। আমি চাই আমার ছেলে হৃদয় সংশোধন হয়ে আমার ফিরে কাছে আসুক।
কোটালীপাড়া থানার এসআই মামুন বলেন, মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধরার রাতে মাদকাসক্ত ছেলেকে আটক করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়ছে।
পড়ুন: গোপালগঞ্জের ধানের জমিতে পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষ
দেখুন: সোলেমান হাজারী এখন গোপালগঞ্জে
ইম/


