বিজ্ঞাপন

রং সাইডে জজের বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় আহত সাংবাদিক, ক্র্যাবের নিন্দা

রাজশাহীতে জজের রং-সাইডে চলা বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সিনিয়র সদস্য লাইফ টিভির এডিটর ইন চিফ আনোয়ার হক। এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) রাতের এই ঘটনায় কোনোমতে তিনি প্রাণে বাঁচলেও মারাত্মক আহত হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আনোয়ার হক ও তার পরিবার সূত্রে ক্র্যাব নেতারা জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহীর সাহেব বাজারের রাজশাহী প্রেসক্লাব থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যোগে কোর্ট স্টেশন এলাকায় বাসায় ফিরছিলেন তিনি। রিকশাটি ভেড়িপাড়া মোড় অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে আসা একজন জজের বড় আকারের হায়েস মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো – চ ১৯ – ৪৬৮২) সজোরে ধাক্কা দেয়।

এতে সাংবাদিক আনোয়ার হক রাস্তার ওপর ছিটকে পড়েন। ঘাড়, মাথা, বুক, হাত, কোমর, পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন। এই ঘটনায় তরুণ রিকশাচালকও মারাত্মক আহত হন। তার রিকশার সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন দৌড়ে এসে তাদের উদ্ধার করে। প্রাথমিক সেবা-শুশ্রূষা করেন তারা। এই সুযোগে জজকে বহনকারী মাইক্রোবাসটির চালক গাড়িটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। উপস্থিত জনগণ তখন গাড়িটি আটকে দেন।

বিক্ষুব্ধ জনতা মাইক্রোবাস চালককে গাড়িটি রাস্তার একপাশে নিয়ে রেখে গাড়ি থেকে নামতে বললেও তিনি তাদের কোনো কথাই শুনতে চাননি। উল্টো তিনি উদ্ধত আচরণ করেন। এক পর্যায়ে ওই পথ দিয়ে সাদা পোশাকে মোটরসাইকেলযোগে যাচ্ছিলেন রাজপাড়া থানার দুই সদস্য। তারা নিজেদের পরিচয় দিয়ে পুরো ঘটনা শুনে গাড়ি ও রিকশা রাস্তার এক পাশে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশের একটি টহল মাইক্রোবাস ও রিকশা থানায় নেওয়ার উদ্যোগ নেন এবং জনগণকে সরে যেতে বলেন।

ঠিক এমন সময় সাদা রঙের পায়জামা-পাঞ্জাবি পরিহিত এক যুবক চিৎকার করতে করতে ঘটনাস্থলে এসে জনতার মধ্যে ঢুকে পড়েন। উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, স্যারের গাড়ি কে আটকে রেখেছে? সবাই সরে যান।

গাড়ির কাছে এসে পুলিশ সদস্যদের তিনি বলেন, জানেন ভেতরে কে আছে? জজ স্যারের গাড়ি এটা। ওপর থেকে নির্দেশ এসেছে, এই মুহূর্তে গাড়ি ছাড়ার ব্যবস্থা করেন।

ঘটনাস্থলের পাশের বাসিন্দা উল্লেখ করে নিজেকে রাজশাহী কোর্টের নাজির রানা বলে পরিচয় দেন ওই যুবক।

তিনি জানান, ম্যাজিস্ট্রেট শংকর কুমার তাকে পাঠিয়েছেন। নাজির রানা আরও জানান, গাড়িটির ভেতরে রয়েছেন চট্টগ্রামের এডিশনাল জজ আলিম উদ্দিন। রাজশাহীতেই তার শ্বশুরবাড়ি।

নাজির রানার এ নির্দেশনার পরপরই পুলিশ রিকশা চালককে একপাশে নিয়ে গিয়ে দ্রুত ওই এলাকা থেকে বের করে দেয়। আনোয়ার হক গাড়ির ভেতরে বসা জজ আলিমের সঙ্গে কথা বলতে চান। কিন্তু প্রথমে তিনি গাড়ি থেকে নামতে রাজি হননি।

পরে মাত্র মিনিট খানেকের জন্য বাইরে এলে সাংবাদিক আনোয়ার হক বলেন, আপনার বেপরোয়া চালকের কারণে আমি তো মারাত্মকভাবে আহত হচ্ছিলাম। উত্তরে সেই বিচারক তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের সুরে ঘাড় ঝাঁকিয়ে বলেন, অ্যাক্সিডেন্ট হতেই পারে। আপনি তো আর মরেননি!

বলেই তিনি গাড়িতে উঠেই চালককে গাড়ি স্টার্ট দিতে বলেন। পুলিশের সহায়তায় দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায় জজের ওই মাইক্রোবাস। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ঈদ উদযাপনে নিরাপত্তা পরামর্শ দিল পুলিশ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন