ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিজেপির পরিচিত মুখ এবং রাজ্য শাখার সাবেক সভাপতি দিলীপ ঘোষ ৬১ বছর বয়সে বিয়ে করেছেন। তার এই বিয়ে ঘিরে দুই দিন ধরে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। নববধূ রিঙ্কু মজুমদার, যিনি নিজেও একজন বিজেপি নেত্রী এবং দিলীপ ঘোষের দীর্ঘদিনের সহকর্মী। তবে দিলীপ ঘোষের বয়স বা পাত্রীর পরিচয় নয়, সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে তার অতীত পরিচয়—তিনি আরএসএস বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রাক্তন ‘প্রচারক’ ছিলেন।
আরএসএসের প্রচারকদের জন্য একটি সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়ম রয়েছে—তারা অবিবাহিত থাকবেন এবং সারাজীবন সংগঠনের কাজেই নিজেদের নিয়োজিত রাখবেন। সেই দিক থেকে দিলীপ ঘোষের এই বিয়ে অনেকের কাছেই বিস্ময়ের বিষয় বলে মনে হতে পারে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। দিলীপ ঘোষ ১৯৮৪ সাল থেকে আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ‘প্রচারক’ হিসেবে কাজ করেছেন। কিন্তু ২০১৫ সালে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি আর প্রচারক নন।
আরএসএসের পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলের নেতা ড. জিষ্ণু বসু জানিয়েছেন, “যখন কাউকে রাজনীতিতে পাঠানো হয়, তখন সে আর প্রচারক থাকেন না। কারণ, তখন তার দায়িত্ব ও দৈনন্দিন খরচ সংগঠন নয়, বহন করে রাজনৈতিক দল।” তিনি আরও বলেন, “দিলীপ ঘোষের বিয়েতে সংগঠনের কেউ বিস্মিত হয়নি। বরং গণমাধ্যমেই এই নিয়ে বেশি আলোচনা চলছে।”
বিজেপি নেতারা জানিয়েছেন, দিলীপ ঘোষের বৃদ্ধা মা দীর্ঘদিন ধরেই ছেলের বিয়ে দেখতে চাচ্ছিলেন। সেই ইচ্ছা পূরণ করতেই এই বিয়ে। রিঙ্কু মজুমদারের সঙ্গে রাজনীতির ময়দানেই তার পরিচয় ও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। শেষমেশ তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বিয়ের অনুষ্ঠানটি ছিল ঘরোয়া, নিউ টাউনে এক অনুষ্ঠানে আইনি ও বৈদিক রীতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারসহ দলের শীর্ষ নেতারা। সুকান্ত মজুমদার বলেন, “অনেক রাজনৈতিক নেতা জীবনের পরে বিয়ে করেছেন। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।”
ইতিহাস বলছে, আরএসএসের প্রাথমিক যুগে অনেক প্রচারক বিবাহিত ছিলেন। এমনকি বর্তমান সর-সংঘচালক মোহন ভাগবতের পিতা মধুকর রাও ভাগবতও ছিলেন বিবাহিত একজন প্রচারক। তবে দ্বিতীয় সংঘচালক মাধব গোলওয়ালকরের সময় থেকে কড়া ব্রহ্মচর্য এবং অবিবাহিত জীবনের আদর্শ চালু হয়। তিনি রামকৃষ্ণ মঠের আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন এবং সেখান থেকেই আরএসএসে এই অনুশাসনের সূচনা।
বিগত সময়ে আরএসএসের অনেক প্রচারক রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করে সংসারী হয়েছেন। কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, অরবিন্দ মেননসহ আরও অনেকে প্রচারক থাকাকালীন বিয়ে না করলেও পরে সংসারী হয়েছেন। এমন উদাহরণ মহারাষ্ট্র, ওড়িশা এবং মধ্যপ্রদেশে বহু রয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, দিলীপ ঘোষের বিয়ে আরএসএস বা বিজেপির মধ্যে তেমন কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি করেনি। বরং এটি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের একটি স্বাভাবিক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
পড়ুন: তালতলীতে দ্বিতীয় বিয়ে মেনে না নেওয়ায় স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে আত্মহত্যা
দেখুন: বিয়ের দাবিতে যুবকের বাড়িতে দুই সন্তানের জননীর অনশন |
ইম/


