দেশের শরিয়াহভিত্তিক ছয়টি প্রধান ইসলামী ব্যাংকে বিগত বছরগুলোর বিতর্কিত নিয়োগ এবং সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত ৭ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি এই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
তদন্তের আওতায় থাকা ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে— ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক।
তদন্ত কমিটি মূলত দুটি প্রধান দিক খতিয়ে দেখবে। প্রথমত, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন সময়ে সার্কুলার বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়া যে হাজার হাজার জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, সেগুলোর স্বচ্ছতা ও বৈধতা যাচাই। এবং দুই, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে যে প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, তা নিয়মতান্ত্রিক ও আইনসম্মত কি না।
আন্দোলনরত চাকরিচ্যুত কর্মীদের দাবি, কোনো আগাম নোটিশ বা সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাদের ওপর এই ‘শুদ্ধি অভিযান’ চালানো হয়েছে, যা পুরোপুরি বৈষম্যমূলক। গত ১৯ এপ্রিল তারা মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন করে পুনর্বহালের দাবি জানান।
অন্যদিকে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ— বিগত বছরগুলোতে চট্টগ্রামের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের অযোগ্য প্রার্থীদের দিয়ে ব্যাংকগুলো ভরে ফেলা হয়েছিল। যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে জালিয়াতি পাওয়া গেছে কিংবা যারা ন্যূনতম মূল্যায়ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি, কেবল তাদেরই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কমিটিকে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এই প্রতিবেদনের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে ছাঁটাইকৃতরা চাকরিতে ফিরবেন নাকি তাদের অব্যাহতি বহাল থাকবে।
এই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর প্রশাসনিক পর্যায়ে বর্তমানে এক ধরনের অস্থিরতা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই তদন্তের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে সুশাসন ফিরিয়ে আনার পথে একটি স্বচ্ছ রূপরেখা তৈরি হবে।
পড়ুন : গ্রামীণফোন ও প্রাইম ব্যাংক ফিনটেকের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর


