২৬/০২/২০২৬, ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ
18.8 C
Dhaka
২৬/০২/২০২৬, ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

নোয়াখালীতে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, দ্রুত বোরো ধান ঘরে তোলার আহব্বান

নোয়াখালীতে ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় জেলা শহর মাইজদীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জমিতে পানি জমায় পাকা বোরো ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। সামনে বৃষ্টির মৌসুম থাকায় কৃষকদেরকে দ্রুত পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার আহব্বান জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

বিজ্ঞাপন


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নোয়াখালী পৌরসভার ড্রেনগুলো এবং খালগুলোর মধ্যে ময়লা আবর্জনা জমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষার আগেই দ্রুত ড্রেন ও খালগুলো সংস্কারের দাবি তাদের।


নোয়াখালীতে ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয় জানিয়ে জেলা আওহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার সকাল ৯টার পর জেলা শহরে ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরআগে শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল ৯টা পযন্ত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীতে ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এটা ছিল দেশের সব্বোর্চ্চ বৃষ্টিপাত।
সোমবার সকালে সরেজমিন জেলা শহর মাইজদীর টাউন হল, ফ্লাট রোড, পাঁচ রাস্তার মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে সড়কে ও দোকানপাটে জলাবদ্ধতা দেখা যায়। দুপুরের পরও এসব এলাকা থেকে পানি সরে যায়নি।


ফ্লাট রোড়ের সানরাইজ ইলেক্টনিক্সের সত্ত্বাধিকারী মামুন বলেন, শহরের প্রত্যেকটি ড্রেন ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হয়ে আছে। এছাড়া খালগুলো দখল এবং ময়লা আবর্জনা ফেলে মৃতপ্রায় অবস্থা হয়ে আছে। ফলে বৃষ্টি হলেই শহর ডুবে যাচ্ছে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এন-রাশ এর পরিচালক একরাম হোসেন হৃদয় বলেন, গেল বছরের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত এখনো কাটিয়ে তুলতে পারেনি নোয়াখালীবাসী। বর্ষার আগে শহরের ড্রেন ও খালগুলো পরিস্কার ও সংস্কার না করলে এবারও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বন্যায় পরিনত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জেলা প্রশাসন এবং নোয়াখালী পৌরসভার প্রতি দ্রুত সময়ের মধ্যে শহরের ড্রন এবং খালগুলো পরিস্কারের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি তোলেন তিনি।


স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এসএইচবিও’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ফাহিদা সুলতানা বলেন, সবেমাত্র বৈশাখের শুরু, এখন থেকেই বর্ষার আলামত দেখা যাচ্ছে। দু-এক দিনের বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে জুলাইয়ে দু’সপ্তাহ ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। যদি এমনটা হয়, তাহলে ঘটতে পারে চব্বিশের বন্যার পুনরাবৃত্তি। অথচ এখনো আমরা দেখছি নর্দমা পরিষ্কার হয়নি, খাল খননের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, ড্রেনেজ ব্যবস্থা আগের মতোই ভঙ্গুর। তাই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি তোলেন এই সংগঠক।
এদিকে ভারি বর্ষণে নোয়াখালীর সদর উপজেলা, বেগমগঞ্জ, সুবর্ণচর ও কবিরহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাকা বোরো ধানের জমিতেও পানি জমে গেছে। এতে পাকা ধান কাটা, মাড়াই দেওয়া ও ঘরে তোলা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। অনেক জায়গায় বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে পাকা এবং আধাপাকা বোরো ধান হেলে পড়েছে। কোথাও কোথাও জমিতে কেটে রাখা ধান পানির কারণে মাড়াই দেওয়া যাচ্ছে না।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মীরা রানী দাস বলেন, নোয়াখালীতে এরমধ্যেই প্রায় ৪০ ভাগ জমির পাকা ধান কাটা হয়ে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে বেশিরভাগ ধান কাটা হয়ে যাবে। সামনে বৃষ্টির মৌসুম থাকায় কৃষকদেরকে দ্রুত পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার জন্যও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


এবিষয়ে জেলা প্রশাসক খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, গত বছর নোয়াখালীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার পরই স্বল্প-মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ণের কাজ শুরু হয়েছে।


তিনি বলেন, এরই মধ্যে পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বর্ষা শুরুর আগেই খাল-নালাগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করে পুনঃখনন-পরিষ্কার করা হবে।

পড়ুন: নোয়াখালীতে পানির তীব্র সংকট, জিও হাইড্রোলজিক্যাল সার্ভের দাবি

দেখুন: নোয়াখালী সোনাইমুড়ী আনসার সদস্যের অভিযানে অ*স্ত্র উদ্ধার 

ইম/


বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন