ইসরায়েল ফিলিস্তিন দ্বন্দের বরাবরই ইসরায়ের বন্ধু হিসেবে পাশে ছিলো যুক্তরাষ্ট্র। তবে এবার সম্পর্কের মোড় ঘুড়েছে দুই মিত্রের। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গতকাল শুক্রবার (০৯ মে) ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যমের বরাতে তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি আর্মি রেডিওর সাংবাদিক ইয়ানির কোজিন এক্স বা সাবেক টুইটারে এক পোস্টে লিখেছেন, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠমহল মনে করছে, নেতানিয়াহু তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন— এমন সন্দেহ থেকেই ট্রাম্প সম্পর্ক ছিন্ন করার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। দুজনের মধ্যে বাড়তে থাকা হতাশা ও দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর আগেই গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েল হায়োম পত্রিকা ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বর্তমানে নেতানিয়াহুর ওপর ‘হতাশ’। তিনি ভবিষ্যতে নেতানিয়াহুর অংশগ্রহণ ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চান।
একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রিপাবলিকান নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ইসরায়েলি মন্ত্রী ডারমারের আচার-ব্যবহার ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনদের কাছে ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসহযোগিতাপূর্ণ’ বলে মনে হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ট্রাম্পের আশেপাশের লোকজন তাকে বলেছেন, ‘নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ব্যবহার করছেন।’
পরিচয় গোপন রাখা ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ট্রাম্পকে একটা বিষয় সবচেয়ে বেশি ক্ষেপিয়ে তোলে, যখন কেউ তাকে বোকা বানানোর চেষ্টা করে বা চালবাজি করে। এ কারণেই তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন।’
অবশ্য এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল—দুই দেশের কারও পক্ষ থেকেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে ইসরায়েল হায়োম নামের একটি পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের সঙ্গে ইসরায়েলি আর্মি রেডিওর সাংবাদিক ইয়ানির কোজিনের বক্তব্য মিলে গেছে। ডানপন্থী এই পত্রিকা নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
ইসরাইলের একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করার পাশাপাশি ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি চুক্তি করতে ইসরাইলের ওপর চাপও প্রয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী সপ্তাহে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফর শুরুর আগেই যুক্তরাষ্ট্র চায় গাজায় হামাস-ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধ হোক।
কোজিন আরও জানান, ইরান ও ইয়েমেনের হুতিদের বিষয়ে ইসরাইলি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা না দেয়াও নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির একটি অন্যতম কারণ। এছাড়া গাজার বিষয়ে নেতানিয়াহুর সরকার কোনো স্পষ্ট প্রস্তাব দিতে না পারায় ট্রাম্প প্রশাসনের অসন্তোষ আরো বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন ইসরাইলি আর্মি রেডিও’র এই সাংবাদিক।
ইসরাইলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজ গতকাল শুক্রবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে হুমকি দিয়েছে, যদি তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী হামাসের সঙ্গে তারা যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি চুক্তি না করে তাহলে তাদেরকে ‘একা ছেড়ে দেয়া হবে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র আর পাশে থাকবে না।
এনএ/


