চিকিৎসা ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে ক্যান্সার প্রতিরোধে ব্যবহৃত এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল এবং চিকিৎসা যন্ত্রপাতির ওপর শুল্কছাড়ের আওতা বাড়ানো হচ্ছে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে সরকারের এমন পরিকল্পনার কথা জানা গেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়ে নতুন করে ৭৯টি পণ্য শুল্কছাড়ের তালিকায় যুক্ত করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত তালিকায় ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধ তৈরির জন্য ২৩টি কাঁচামাল, অন্যান্য ওষুধ উৎপাদনের জন্য ৩৬টি কাঁচামাল এবং ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত ২০ ধরনের যন্ত্রপাতি রয়েছে। ক্যান্সারের ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত নতুন কাঁচামাল অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করেছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এর আলোকে সরকার নতুন সুবিধা দিতে যাচ্ছে।
এদিকে দেশের সব হাসপাতালের জন্য চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের সুবিধা থাকতে পারে নতুন বাজেটে। বর্তমানে এ সুবিধা কেবল বিশেষায়িত ও রেফারেল হাসপাতালগুলো পেয়ে থাকে। নতুন বাজেটে সব বেসরকারি হাসপাতালকে এ সুবিধার আওতায় আনা হতে পারে। এ ছাড়া ভ্যাকসিন উৎপাদনে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র টিএফএফ সিস্টেমের জন্য আলাদা এইচএস কোড চালুর পাশাপাশি মাত্র ১ শতাংশ শুল্কে আমদানির সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সম্ভাব্য এসব সুবিধার বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ল্যাবএইড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ এম শামীম সমকালকে বলেন, বাজেটে দেশের সব হাসপাতালের জন্য চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্কছাড় দিলে অবশ্যই তা ভালো উদ্যোগ হবে। এখনও হাসপাতালের বদল যোগ্য খুচরা যন্ত্রপাতিতে ২৭ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। শুল্ক কমানো হলে রোগীর কাছে উন্নত মানের সেবা পৌঁছানো সম্ভব হবে। চিকিৎসায় বিদেশমুখিতা কিছুটা হলেও কমে আসবে। আর ক্যান্সারের ওষুধের মতো যদি সব ওষুধের কাঁচমাল আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়, তাহলে ওষুধের গুণগতমান বাড়বে।
অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যালস ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ এপিআই অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনে (বিএআইএমএ) সভাপতি এস এম সাইফুর রহমান সমকালকে বলেন, স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী আসন্ন বাজেটে ওষুধের কাঁচামাল তৈরিতে নীতি সহায়তার প্রতিফলন চান উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে দেশীয় ব্যবস্থাপনা ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদন শিল্প বিকাশের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে। তাই ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে সুবিধার পরিবর্তে দেশীয়ভাবে কাঁচামাল তৈরিতে সুবিধা দেওয়ার কথা ভাবতে হবে সরকারকে।
আমার হেলথকেয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব আরব মজুমদার সমকালকে বলেন, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক কমানো হলে তা ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে। তবে আরও কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। নতুন এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রকল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন প্রয়োজন। এর জন্য সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে এ খাতের আয়ের ওপর কর কমাতে হবে। তাহলে বিশেষায়িত হাসপাতালে বিনিয়োগ বাড়বে। এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল গড়ে তোলা সম্ভব হবে। দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকেও চিকিৎসা নিতে বাংলাদেশে আসার আগ্রহ তৈরি হবে।
পড়ুন: জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি কন্ট্রোল রুম স্থাপন ডিএনসিসির
দেখুন: বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক: কার কাকে বেশি প্রয়োজন?
ইম/


