বিজ্ঞাপন

কোরবানির মাংস পৌঁছে যাক সবার ঘরে

প্রতিবেশীকে ক্ষুধার্ত রেখে যে পেট পুরে খায়, সে বিশ্বাসী নয়। -মেশকাত, বায়হাকি ইসলামের মূল সুর ফুটে ওঠে এই হাদীসটির মধ্য দিয়ে। এটি আমাদের সচেতন করে দেয় যে, একাকী নিভৃতে শুধু ইবাদতে মশগুল থাকলেই বিশ্বাসীর মানদণ্ডে উতরে যাওয়া সম্ভব নয়। বিশ্বাসীর মর্যাদা পেতে হলে চারপাশে তাকাতে হবে, জানতে হবে আমার নিকটবর্তী পরিবারগুলো ক্ষুধার্ত কিনা, তারা কষ্টে আছে কিনা। ঠিক একই আহ্বান খুঁজে পাওয়া যায় ঈদুল আজহা বা কোরবানির কর্মতৎপরতায়।

বিজ্ঞাপন

সূরা হজ-এর ২৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘জবাই করা পশু থেকে তোমরা খাও এবং অভাবী দরিদ্রদের খাওয়াও।’ প্রতিবেশীর যেমন ধর্মবর্ণ উল্লেখ করা হয় নি, তেমনি অভাবী মানুষও যে ধর্মেরই হোক না কেন, বিপদে-আপদে তার প্রতি বাড়িয়ে দিতে হবে সহযোগিতার হাত। তেমনি কোরবানির এ উৎসবে কেবল একা পেট পুরে খাওয়া নয়, চারপাশের সবার ঘরেও পৌঁছে দিতে হবে কোরবানির মাংস। এটাই শাশ্বত ধর্মের শিক্ষা। এটাই কোরবানির সামাজিকায়ন।

কোরবানির মাংস পৌঁছে যাক সবার ঘরে

দেশের কিছু গ্রামে এখনও সমাজব্যবস্থার মাধ্যমে মাংস বণ্টন হয়, এমনকি শহরেও পঞ্চায়েত ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা যায়। কয়েকবছর আগে কোরবানির এমন চমৎকার সামাজিকায়ন হতো। বর্তমানে আমাদের আর্থিক সামর্থ্য অনেক বেড়েছে। একা আস্ত একটা গরু কোরবানি দেয়ার মানুষ এখন অনেক। কিন্তু কোরবানিকৃত পশুর মাংস বিতরণের সুন্দর বণ্টনব্যবস্থাটা আর নেই। ফলে মাংস খেতে না পারা মানুষগুলো থেকে যাচ্ছেন মনোযোগের অন্তরালে।

বিভিন্ন সঙ্ঘও ইদানীং এ উদ্যোগে শামিল হচ্ছে। আমাদের দেশের স্বেচ্ছাসেবী সঙ্ঘ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন রাজধানীতে এমন উদ্যোগ নিয়েছে। এবছর রাজধানীসহ দেশব্যাপী আরো বিস্তৃত পরিসরে শুরু হয়েছে। চলমান এ উদ্যোগে যে কেউ অংশ নিতে পারেন। সামাজিকায়নে সম্মিলিতভাবে সহমর্মী হয়ে কোরবানি দাতার কাছ থেকে মাংস সংগ্রহ করে পৌঁছে দিতে পারি আশপাশে সবার কাছে। এ উদ্যোগ সর্বত্র ছড়ালে কোরবানির মাংস পৌঁছে যেতে পারে অসামর্থ্যবান এমন সব মানুষের কাছে যারা কখনই অন্যের কাছে মাংস চাইতে যাবেন না। অভাবী ও বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানোর এ আহ্বান ছড়িয়ে যাক সারাদেশে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন