ইলন মাস্ক বনাম ডোনাল্ড ট্রাম্প, এই দুই ক্ষমতাধর ব্যক্তির মধ্যকার দ্বন্দ্বে প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলারের সরকারি চুক্তি পড়েছে ঝুঁকির মুখে। স্পেসএক্স-এর ভবিষ্যৎ নিয়েও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
গত বৃহস্পতিবার (৫ জুন) হোয়াইট হাউস মুখোমুখি হয় এক বিস্ফোরক পরিস্থিতির। একদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, আর অন্যদিকে বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক। ট্রাম্পের নতুন কর ছাড় ও সরকারি ব্যয়ের আইন নিয়ে সমালোচনা করেন মাস্ক। আর সেই থেকেই শুরু হয় নাটকীয় বাকযুদ্ধ।
ওভাল অফিসে ট্রাম্প প্রকাশ্যেই আক্রমণ করেন মাস্ককে। পাল্টা জবাব হিসেবে মাস্ক সামাজিক মাধ্যম এক্স বা সাবেক টুইটারে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে ছুড়তে থাকেন একের পর এক কটাক্ষ। পরিণতিতে প্রেসিডেন্ট হুমকি দেন, স্পেসএক্স-এর সকল সরকারি চুক্তি বাতিলের। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাস্ক জানিয়ে দেন, নাসার ব্যবহৃত ড্রাগন স্পেসক্রাফট তিনি ডিকমিশন বা সেবা থেকে তুলে নিতে যাচ্ছেন। আর তাতেই কেঁপে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ কর্মসূচি।
নাসা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে একমাত্র যে যান ব্যবহার করে নভোচারী পাঠায়, সেটি হলো স্পেসএক্স-এর ড্রাগন। এই যান বন্ধ হলে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা ISS-এ যাতায়াত পুরোপুরি ব্যাহত হতে পারে। এমন হলে নাসা তখন বাধ্য হবে রাশিয়ার সয়ুজ যান ব্যবহার করতে।
যদিও পরে মাস্ক নিজের অবস্থান থেকে খানিকটা সরে আসেন। তিনি লিখেছেন, “ঠিক আছে, আমরা ড্রাগন বন্ধ করব না।” কিন্তু ততক্ষণেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
নাসার পক্ষ থেকে স্পেসএক্স নিয়ে সরাসরি কিছু না বলা হলেও, এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমরা অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব”। তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়, প্রতিশোধ নিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কতদূর যেতে পারেন?
এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, স্পেসএক্স চাইলেই বাতাসে উড়ে যাবে না। কোম্পানিটি ইতিমধ্যে নিজেকে একটি বৈশ্বিক মহাকাশ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে এই দ্বন্দ্বে তাদের বহু আয় ও চুক্তির সম্ভাবনা হারাতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
এই টানাপড়েনে নাসা-র প্রশাসনিক দায়িত্বেও প্রভাব পড়েছে। ট্রাম্পের মনোনীত নাসা প্রশাসক ছিলেন মাস্ক-ঘনিষ্ঠ ধনকুবের নভোচারী জ্যারেড আইজ্যাকম্যান। কিন্তু সপ্তাহান্তেই হোয়াইট হাউস হঠাৎ তাকে প্রত্যাহার করে নেয়। কারণ হিসেবে ট্রাম্প বলেন, “সে পুরোপুরি ডেমোক্র্যাট”। যদিও নথি বলছে, তিনি দুই দলকেই অনুদান দিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন এখন চায় চাঁদে নয়, সরাসরি মঙ্গলে মানুষ পাঠাতে। সেই পরিকল্পনায় মাস্কের স্পেসএক্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে নাসা’র নিজস্ব SLS রকেট ও আর্টেমিস চন্দ্র মিশন বাজেট কাটছাঁটের শিকার। ফলে, রাজনীতির টানাপোড়েন ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণাকে কোথায় নিয়ে যাবে, তা বলা কঠিন।
২০০২ সালে যাত্রা শুরু করে স্পেসএক্স। ইতোমধ্যে এটি নাসা ও পেন্টাগনের ১৫ বিলিয়নের বেশি চুক্তি পেয়েছে। মঙ্গলে পাড়ি দেওয়া থেকে শুরু করে মহাকাশে গুপ্তচর স্যাটেলাইট বসানো- সব জায়গাতেই রয়েছে মাস্কের ছোঁয়া। কিন্তু রাজনীতির আগুনে পুড়ে সেই স্বপ্নের গতি থেমে যাবে কিনা, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা শুধু প্রযুক্তির নয়, এখন স্পষ্টতই হয়ে উঠছে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দান। ট্রাম্প বনাম মাস্কের এই দ্বন্দ্ব ভবিষ্যতের চাঁদ ও মঙ্গলের পথে কোন ছায়া ফেলবে, সেদিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।
পড়ুন: হার্ভার্ডের ২.২ বিলিয়ন ডলারের অনুদান স্থগিত করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
দেখুন: এবার যে মামলায় অভিযুক্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প
এস


