গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের স্থায়ীভাবে আশ্রয় দিতে বেশ কয়েকটি দেশ সম্মত হওয়ার কাছাকাছি বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
স্থানীয় সময় সোমবার (৭ জুলাই) হোয়াইট হাউসে নৈশভোজের আগে ট্রাম্পের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, গাজা দখল এবং উপত্যকাটির বাসিন্দাদের স্থানান্তরের পরিকল্পনা এখনও আলোচনা টেবিলে আছে কিনা। এসময় ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে প্রশ্নের জবাব দিতে বলেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাজাবাসীদের স্থায়ীভাবে আশ্রয় দিতে ইসরায়েল এবং আমেরিকা কয়েকটি দেশ ‘খুঁজে বের করার কাছাকাছি’, যারা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা ছেড়ে যেতে ইচ্ছুক ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করবে।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি মনে করি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। যেটিকে বলা হয় স্বাধীন পছন্দ। যদি মানুষ থাকতে চায়, তারা থাকতে পারে; কিন্তু যদি তারা চলে যেতে চায়, তবে তাদের চলে যেতে দেয়া উচিত।’
তিনি আরও বলেন, গাজা একটি কারাগার হওয়া উচিত নয়। এটি একটি উন্মুক্ত স্থান হওয়া উচিত।’
গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, গাজাকে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় নিতে চান। একই সঙ্গে চান ফিলিস্তিনিদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে স্থায়ীভাবে পাঠিয়ে উপত্যকাটির আবার উন্নয়ন এবং সেখানে ‘বিশ্ববাসী’র দখল প্রতিষ্ঠা করতে।
ইসরায়েলি সরকার ট্রাম্পের গাজা দখল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও তারা এটিকে উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের ‘স্বেচ্ছায় অভিবাসনকে উৎসাহিত করার’ একটি সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করছে।
মানবাধিকার কর্মীরা ইসরায়েলের এই কাজকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বহিষ্কার এবং উপত্যকার জাতিগত নির্মূলের জন্য তীব্র সমালোচনা করে আসছেন।
হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি, এমন দেশ খুঁজে বের করতে চেষ্টা চলছে যারা ফিলিস্তিনিদের একটি উন্নত ভবিষ্যত দেবে।’
এসময় ট্রাম্প বলেন, এই বিষয়ে ‘আশেপাশের দেশগুলো’ থেকে তার ‘ভালো সহযোগিতা’ রয়েছে। ‘ভালো কিছু ঘটবে’ বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
যদিও কিছু প্রতিবেশী দেশ আহত ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসার জন্য সাময়িক আশ্রয় দিলেও, কোনো দেশই প্রকাশ্যে ট্রাম্পের উদ্যোগে সহযোগিতা করতে সম্মতির কথা জানায়নি।
পড়ুন: ট্রাম্পের সাথে দেখা করেছেন নেতানিয়াহু
এস/


