বিজ্ঞাপন

জুলাই আন্দোলনে ৭০০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করা মালেকা বানুর পদোন্নতি

২০২৪ সালে জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রাজধানীতে সরকারি তিতুমীর কলেজে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগে ৭০০ শিক্ষার্থীকে আসামী করে মামলা দায়ের করা অধ্যাপক মালেকা আক্তার বানুকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে গত কয়েকদিন যাবত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। তার নিয়োগ বাতিল না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালে জুলাইয়ের প্রথম দিকে দেশজুড়ে শুরু হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন। সেই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন সরকারি তিতুমীর কলেজে শিক্ষার্থীরাও। সেই জুলাই মাসের ২৫ তারিখে সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মালেকা আক্তার বানু বাদী হয়ে প্রায় ৫০০-৭০০জন আন্দোলনকারি শিক্ষার্থীদের আসামি করে বনানী থানায় মামলাটি করেন।

সেই মামলায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারিদের দুষ্কৃতকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মামলায় আইনশৃংঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নাশকতা করার লক্ষ্যে বেআইনি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসোটা, ইটপাটকেল নিয়ে সরকারি তিতুমীর কলেজে হামলার মিথ্যা অভিযোগ আনা হয় । এতে আরও অভিযোগ করা হয় আন্দোলনকারি শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের অফিস কক্ষ থেকে পঞ্চাশ লাখ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।

এছাড়া সরকারি তিতুমীর কলেজের শহীদ আক্কাছুর রহমান আঁখি ছাত্রাবাসের গেট ভেঙে অনধিকার প্রবেশ করে ছাত্রাবাসের ভেতর থেকে ৪০টি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, ১২টি মোবাইল ফোন, ৫০টি টেবিল ফ্যান, ৪৬টি সিলিং ফ্যান, ২টি টেলিভিশন, ২০টি দেওয়াল ঘড়ি, তালাবদ্ধ করা টেবিলের ড্রয়ার ভেঙে নগদ টাকাসহ আনুমানিক চল্লিশ লাখ টাকার মালামাল চুরি করার অভিযোগ আনা হয় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা অধ্যাপক মালেকা আক্তার বানুকে গত ২ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কোটা সংস্কার আন্দোলন বিরোধী মালেকা আক্তার বানুকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। তার নিয়োগ বাতিল না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

জুলাই রেভ্যুলেশনারী এলায়েন্সের যুগ্ম আহবায়ক বাইজিদুর রহমান সিয়াম বলেন, অধ্যাপক মালেকা আক্তার বানু ৭০০জন জুলাই যোদ্ধার বিরুদ্ধে নিজে বাদি হয়ে মামলা দিয়েছিলেন। উনি অধ্যক্ষ হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসবেন, তা কিভাবে সম্ভব! মালেকা বানু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসে চাকরি করবে এই দু:সাহস কিভাবে করেন? আমরা ডিসি বরাবর স্মারকলিপি দিব, যেন এই স্বৈরাচারের দোসরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসতে না দেওয়া হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী বলেন, আজ যদি ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন না হতো মালেকা বানু আসামি করা আমাদের ৭০০ শিক্ষার্থীর জীবন ধ্বংস হয়ে যেতো। উনি পরিকল্পিত ভাবে তা করেছিলেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর এই মালেকা বানুকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেখতে চাই না। তাকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।

ইসলামি ছাত্রশিবিরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি হাসান মাহমুদ বলেন, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর মামলা দিয়ে ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করেছিলেন অধ্যাপক মালেকা বানু। তার পদোন্নতি শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে তার পদোন্নতি বাতিলের দাবি জানাই

আর ছাত্রদের বিরুদ্ধে করা মামলা উপরের নির্দেশে নিজের অজান্তে বলে করেছে বলে দাবি করে অধ্যাপক মালেকা আক্তার বানু মুঠোফোনে বলেন, আমরা সরকারি নিয়ম মেনেই চাকরি করছি। যখন যে থাকবে তার দেওয়া নির্দেশনা আমরা মেনে চলি। আমাকে মামলায় বাদি করানো হয়েছে। তখনকার যিনি প্রিন্সিপাল ছিলেন তিনি বাদি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। কেউ বাদি হতে রাজি হননি। উনার কথায় আমি রাজি হয়েছিলাম। তাকে কি লেখা ছিল আমি জানি না। আমি শুধু সাক্ষর দিয়েছিলাম।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বাবার মরদেহ গ্রহণ করেনি সন্তান, দাফন করল ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন