বিজ্ঞাপন

লক্ষ্মীপুরে মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত, জলাবদ্ধতায় জনজীবন বিপর্যস্ত

লক্ষ্মীপুরে চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৬১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রামগতি আবহাওয়া সতর্কীকরণ অফিসের কর্মকর্তা মো. সৌরভ হোসেন।

তিনি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং পূর্ণিমার প্রভাবে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এই অবস্থা আরও কয়েক দিন থাকতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। টানা দুই দিনের অবিরাম বর্ষণে লক্ষ্মীপুরের জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ ও খেটে খাওয়া দিনমজুরদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। ভেজা সড়ক, জমে থাকা পানি আর চলাচলের সংকটে অনেকেই পলিথিনে বই মুড়িয়ে, জুতা হাতে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছেন। বৃষ্টির কারণে শহরের বেশিরভাগ রিকশা ও অটোরিকশা চলাচলও সীমিত হয়ে পড়েছে। যাত্রীদের গুণতে হয়েছে দ্বিগুণ ভাড়া।

এদিকে, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার জেবি রোড, কলেজ রোড, বাঞ্ছানগর, মজুপুর, শমসেরাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নালা-নর্দমা উপচে পানি রাস্তায় ওঠে আসায় সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে দুর্ভোগে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. জসীম উদ্দিন বলেন, যেসব জায়গায় পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। সেখানে পৌরসভার পক্ষ থেকে পানি সরানোর কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রেনেজ পরিষ্কার করে দ্রুত সময়ে পানি সরানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে যেন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয়, সে জন্য শহরের আশপাশে খাল পরিষ্কার করে পানি প্রবাহের কাজ করছে জেলা, উপজেলা ও পৌর প্রশাসন।

প্রসঙ্গত, গত বছর আগস্ট মাসের শেষ দিকে প্রবল বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ডুবে যায়। পরবর্তীতে ফেনী-নোয়াখালী থেকে বন্যার পানি এসে প্রায় দেড় মাস পানিবন্দি ছিল জেলার কয়েক লাখ মানুষ। তাই এই বছর বর্ষা মৌসুম শুরুর আগ থেকে জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকারের নির্দেশনায় জেলায় অবস্থিত নদী ও খানে জলাবদ্ধতা নিরসনে অভিযান পরিচালনা করে আসছে স্থানীয় প্রশাসন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : লক্ষ্মীপুরে খুন ও মাদকের প্রধান আসামি গ্রেফতার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন