32.4 C
Dhaka
০৩/০৩/২০২৬, ১৩:১১ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

নাগরিক টেলিভিশনের সংবাদ প্রচারের পর খুদে বিজ্ঞানী আল কাসাবের খোঁজ নিলেন তারেক রহমান

“দেশের প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানীদেরও হারিয়ে দিচ্ছে আল কাসাব”—এই শিরোনামে নাগরিক টেলিভিশন ডিজিটালে প্রচারিত সংবাদ মুগ্ধ করেছে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষকে। সেই ধারাবাহিকতায় লন্ডন থেকে সরাসরি ফোনে খোঁজখবর নিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল সোমবার দুপুরে ফোনে আল কাসাবের বাবা মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আলোচিত এই খুদে বিজ্ঞানী আল কাসাব মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার সাহেবনগর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিজের চেষ্টাতেই একের পর এক মহাকাশযান, রোভার, এবং সামরিক প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্র আবিষ্কার করেছে সে। নেই কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের সহায়তা বা উচ্চ পর্যায়ের ল্যাবরেটরি, তবুও তার মেধা, মনন এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা তাক লাগিয়ে দিয়েছে সবাইকে।

আল কাসাবের আবিষ্কৃত রোভারটি চাঁদের মাটিতে অবতরণ করে রেডিও কমিউনিকেশনের মাধ্যমে তথ্য পৃথিবীতে প্রেরণ করতে পারে। শুধু তাই নয়, চাঁদে পাঠানো কিউরিসিক ওয়ান নামের একটি ক্যামেরা ১৮০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে নাইট ভিশনে ধারণকৃত ছবি পৃথিবীতে থাকা অ্যান্টেনার মাধ্যমে কম্পিউটার ডেটা সেন্টারে পাঠাতে পারে। এমনকি, শত্রুপক্ষের হেলিকপ্টার বা যুদ্ধবিমান আকাশে দেখামাত্র সেটি শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক ধ্বংস করার প্রযুক্তিও যুক্ত করেছে সে তার যন্ত্রে।

নাগরিক টেলিভিশনে প্রচারিত এই প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে মেহেরপুর জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দও তা গভীর মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করেন। এরপর আজ বুধবার সকালে আল কাসাবের বিদ্যালয়ে ছুটে যান জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মাসুদ অরুন। তিনি বলেন, তারেক রহমান লন্ডনে থেকেও বাংলাদেশের প্রতিটি সম্ভাবনাময় প্রতিভার প্রতি দৃষ্টি রাখছেন। সেই সূত্রেই আল কাসাবের প্রতিভা সম্পর্কে জেনে সরাসরি তার বাবাকে ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, তারেক রহমান দলের পক্ষ থেকে এই খুদে বিজ্ঞানীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভবিষ্যতে তার উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা আরও বিস্তৃত করতে প্রয়োজন হলে প্রযুক্তিগত সহায়তা কিংবা গবেষণাগার ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। মাসুদ অরুন নাগরিক টেলিভিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এমন একটি প্রতিবেদন প্রচার করে আপনারা শুধু একজন প্রতিভাবান শিশুকে নয়, গোটা জাতিকে উৎসাহিত করেছেন।

এদিকে সাহেবনগর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ বলেন, আল কাসাব আমাদের স্কুলের গর্ব। তার প্রতিভা আমাদের শিক্ষক সমাজকেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। আমরা তাকে প্রয়োজনীয় সবরকম সহায়তা দেব। নাগরিক টেলিভিশনের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ, তারা এই প্রতিভাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরেছে।

আল কাসাবের বাবা মোসাদ্দেক হোসেন জানান, তারেক রহমান স্যারের ফোন পেয়ে আমি আবেগাপ্লুত। তিনি আমার ছেলের খোঁজ নিয়েছেন, এটা আমাদের পরিবারের জন্য বড় প্রাপ্তি। ছেলেটা সারাক্ষণ মাথা নিচু করে শুধু কম্পিউটারেই পড়ে থাকে, খেলাধুলা বা বিনোদনের কোনো দিকেই মন নেই। এখন মনে হচ্ছে ওর পরিশ্রম স্বার্থক হতে চলেছে।

বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও এই খুদে বিজ্ঞানীর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। অনেকেই বলেছেন, রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে এমন মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির স্বীকৃতি দেয়া উচিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলের।

সংবাদ প্রচারের পর থেকে আল কাসাব এখন স্থানীয়ভাবে একটি পরিচিত নাম। তার স্কুলে প্রতিবেশী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এসে তার উদ্ভাবন দেখতে চাইছেন। তার কর্মকাণ্ড এখন আর কেবল গাংনীর সাহেবনগরেই সীমাবদ্ধ নয়, ছড়িয়ে পড়ছে দেশজুড়ে।

একটি সংবাদই বদলে দিয়েছে এক শিক্ষার্থীর জীবনচিত্র। তাকে নিয়ে এখন ভবিষ্যতের বড় বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে পরিবার, শিক্ষক এবং পুরো জেলা। এখন শুধু দরকার জাতীয় পর্যায়ের সহায়তা এবং গবেষণার সুযোগ।

পড়ুন: ‘গণহত্যার নির্দেশদাতা শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে মোদি সরকার’

দেখুন: ঢাকায় ১০ ডিসেম্বর ঘিরে কি পরিবহন বন্ধ থাকবে?

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন