রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় স্থানীয় হেডম্যান (মৌজাপ্রধান) ও কারবারিদের (গ্রামপ্রধান) নিয়ে সেনাবাহিনীর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) জুরাছড়ি সেনাজোনের উদ্যোগে হেডম্যান ও কারবারি সম্মেলন- ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলার বনযোগীছড়ায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বনযোগীছড়া মৌজার হেডম্যান করুনাময় চাকমার সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সেনাবাহিনীর জুরাছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ হাসান সেজান। এসময় জোন অধিনায়ক পাহাড়ে পাহাড়ে চাঁদাবাজি বন্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সদা প্রস্তুত এবং বদ্ধপরিকর বলে জানান।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সেনাজোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মুশফাক আমীন চৌধুরী, মগবান মৌজার হেডম্যান সুজিত দেওয়ান, জুরাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ইমন চাকমা, বনযোগীছড়া ইউপি চেয়ারম্যান সন্তোষ বিকাশ চাকমা, মৈদং ইউপি চেয়ারম্যান সাধনা নন্দ চাকমা ও দুমদুম্যা ইউপি চেয়ারম্যান শান্তি রাজ চাকমা। এছাড়াও বরকলের আন্দারমানিক মৌজার হেডম্যানসহ জুরাছড়ির ১১টি মৌজার হেডম্যান ও সংশ্লিষ্ট কারবারিসহ (গ্রামপ্রধান) বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় জোন কমান্ডার আরও বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর সেনাবাহিনী নিরবিচ্ছিন্নভাবে পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে জনজীবনকে আরও সুদৃঢ় করতে সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর। হেডম্যান, কারবারি এবং সেনাবাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব।
জোন কমান্ডার বলেন, বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় ভারি বর্ষণের কারণে অনেক সময় ভূমিধসের সৃষ্টি হয়। অবশ্যই সবাইকে নিজের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি নিরসনে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে৷ এছাড়াও যেকোনো দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনাবাহিনী সর্বদা আপনাদের পাশে থাকবে।
দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী হেডম্যান ও কারবারিদের মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। এছাড়াও রক্ত পরীক্ষা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য ট্যাবলেট এবং প্রাথমিক চিকিৎসার উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
পড়ুন : রাঙামাটির সীমান্তে পুশইন ও চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবির তৎপরতা


