পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলামের বদলির খবরে কুয়াকাটায় মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করেছে স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাত ৯ টার দিকে কুয়াকাটা পৌর শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিলটি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সৈকত এলাকায় এসে শেষ হয়। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী সহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
জানা যায়, মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আবুল হায়াত মো. রফিকের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাঁকে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে বদলি করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি আপীল বোর্ডের শাখা প্রধান হিসাবে তাঁকে দায়িত্বে ন্যাস্ত করা হয়। এর আগে ২০ মার্চ ২০২৪ থেকে তিনি এই উপজেলা দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

আনন্দ মিছিলে অংশগ্রহণকারী মো. মন্নান নামের এক স্থানীয় জানান, ইউএনও রবিউল সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে আসেনি তিনি সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিয়েছে এতদিন। মানুষের কাছ থেকে চাঁদা নেয়া, অন্যায় অত্যাচার করার পরে তার এই বদলির খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক স্বস্তির নিঃশ্বাস উঠেছে। স্বস্তির নিঃশ্বাসে মানুষ মিষ্টি বিতরণ করছে আনন্দ উল্লাস করছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রুমি শরিফ জানান, ইউএনও রবিউল নিজের স্বার্থে স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরকে নির্যাতন করতো, চাঁদা নিতো। এমনকি মসজিদের জমি পর্যন্ত দখল করেছে। তার বদলির খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উল্লাস তৈরি হয়েছে। আমরা চাই, এরপরে যে ইউএনও আসবেন তিনি সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে মানুষের খোঁজখবর নিয়ে মানুষের মন জয় করবেন।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হারুন মৃধা জানান, ইউএনও রবিউল ইসলাম একজন দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। তিনি সৌন্দর্য বর্ধনের নামে কুয়াকাটার ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের বার বার উচ্ছেদ করেছে। এতে তারা নিঃস্ব হয়ে গেছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে অসহায় জীবন যাপন করেছেন তারা। তার অভিযোগ ইউএনও সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হয়েও ৫ আগস্টের পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সহ সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছে। এ জন্য তার বদলীর খবর শুনে আমরা খুশি হয়েছি। আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছি।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুন তার বিরুদ্ধে সাগর সৈকত জামে মসজিদের জমি দখলের অভিযোগ এনে অনতিবিলম্বে তার অপসারণ এবং মসজিদের জমি ফেরত চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ এবং সৈকতে আলোকচিত্রীদের কম্পিউটার, ক্যামেরা অবৈধভাবে জব্দ করেছে এমন অভিযোগে ঝাড়ু মিছিল করেছিল স্থানীয় ফটোগ্রাফার, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
পড়ুন : পটুয়াখালীর দুমকীতে হাসি বেগমের মাথা গোঁজার ঠাইটুকুও কেড়ে নিল কালবৈশাখী


