বিজ্ঞাপন

আলোচনায় চিনের এফ-৭ বিজিআই: বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আকাশযোদ্ধা

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর দেশজুড়ে শোকের ছায়া। এই দুর্ঘটনায় নিহত হন বিমানটির পাইলট। ঘটনাটি যেমন নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণ কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তেমনি নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিধ্বস্ত হওয়া যুদ্ধবিমানটির না- এফ-৭ বিজিআই।

চীনের তৈরি এই যুদ্ধবিমানটির প্রযুক্তি, ইতিহাস এবং কার্যকারিতা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও।

সাবেক মিগ-২১-এর আধুনিক রূপ

এফ-৭ বিজিআই মূলত সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি মিগ-২১ যুদ্ধবিমানের ভিত্তিতে চীনের উন্নয়নকৃত একটি ফাইটার জেট। চীনে এটি ‘চেংদু জে-৭’ নামে পরিচিত। ১৯৬০-এর দশকে চীন মিগ-২১-এর নকশা ব্যবহার করে নিজস্ব সংস্করণ তৈরি করে, যার সর্বশেষ এবং সবচেয়ে উন্নত সংস্করণই হলো এফ-৭ বিজিআই।

বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী এটি বিশেষভাবে উন্নয়ন করে সরবরাহ করে চীন। মূলত এটি ব্যবহৃত হয় প্রশিক্ষণ, টহল, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সীমিত আক্রমণ মিশনের উদ্দেশ্যে।
প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য

এফ-৭ বিজিআই একটি হালকা, এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট সুপারসনিক যুদ্ধবিমান। এটি যে কোনো আবহাওয়ায় কাজ করতে পারে (অল-ওয়েদার ইন্টারসেপ্টর)। ডেল্টা-আকৃতির পাখার কারণে শব্দের চেয়ে বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম এবং দ্রুত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বিজিআই সংস্করণে যুক্ত হয়েছে আধুনিক অনেক ফিচার:

মাল্টিফাংশন ডিসপ্লে (MFD)

হেড-আপ ডিসপ্লে (HUD)

হেলমেট-মাউন্টেড সাইট (HMS)

হ্যান্ডস অন থ্রটল অ্যান্ড স্টিক (HOTAS)

মুভিং ম্যাপ GPS

উন্নত ন্যাভিগেশন ও বোমার্ডমেন্ট সিস্টেম

পাইলটের জরুরি সুরক্ষায় রয়েছে মার্টিন বেকার এমকে.১০ ইজেকশন সিট, যা দুর্ঘটনার সময় পাইলটকে দ্রুত বিমান থেকে বের হওয়ার সুযোগ দেয়।

ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা

যদিও যুদ্ধবিমানটি আধুনিক প্রযুক্তিতে আপগ্রেড করা, তবে এর রেঞ্জ ও বহুমুখী সক্ষমতা সীমিত। মাল্টিরোল যুদ্ধবিমানের তুলনায় এটি কম কার্যকর। এ কারণে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী এই বিমানগুলোকে একধরনের ‘ট্রানজিশনাল’ সমাধান হিসেবে গ্রহণ করে, যতদিন না আরও আধুনিক যুদ্ধবিমান বহরে যুক্ত হয়।

চীন ২০১৩ সালে এই সিরিজের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশের জন্য সরবরাহ করা ইউনিটগুলোর মধ্যেই ছিল এই সিরিজের সর্বশেষ সংস্করণ।

মূল্যায়ন

বর্তমান যুগের হাই-টেক যুদ্ধবিমানগুলোর তুলনায় এফ-৭ বিজিআই কিছুটা পুরনো প্রযুক্তির হলেও সীমিত প্রতিরক্ষা, প্রশিক্ষণ ও টহল মিশনের জন্য এখনো এটি কার্যকর।

তবে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা প্রশ্ন তুলছে-পুরোনো প্রযুক্তিনির্ভর এই বিমানগুলো আমাদের আকাশসীমা রক্ষায় কতটা নিরাপদ ও সময়োপযোগী?

এফ-৭ বিজিআই হয়তো একসময় ছিল নির্ভরতার প্রতীক, কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি।

পড়ুন: উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনা : পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় শোক

এস/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন