24.9 C
Dhaka
০৩/০৩/২০২৬, ২২:২৩ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের এসপিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

আটকের পর থানা হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন হয়েছে। মঙ্গলবার শাহনাজ খাতুন নামে একজন বিএনপি নেত্রী এই আবেদন করেন। নির্যাতনের অভিযোগে ‘হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ’ আইনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট আমলী আদালতে মামলার আবেদন করা হয়। আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল মাজিস্ট্রেট উজ্জ্বল মাহমুদ বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে পরে আদেশ দেবেন বলে জানান। মামলার বাদী শাহনাজ খাতুন ভোলাহাট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ওই উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান।

বিজ্ঞাপন

মামলায় যাদের আসামি করার আবেদন করা হয়েছে তারা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইয়াসির আরাফাত, ভোলাহাট থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মতিউর রহমান। বাদী আইনজীবী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক বুলু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন ২৮ জুন বাদী শাহনাজ তার ব্যক্তিগত কাজে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথিমধ্যে আসামীরা তার পথরোধ করে। সেসময় পথরোধের কারণ জানিতে চাইলে ওয়ারেন্ট আছে বলে জানায়। তিনি ওয়ারেন্টের কাগজ দেখতে চাইলে মামলার প্রধান আসামি ভৎসনা বলে যে, তোকে গ্রেফতার করতে ওয়ারেন্টের কাগজ দেখাতে হবে- খুব বড় চেয়ারম্যান হয়েছিস। পরে অন্যান্য আসামীরা জোর পূর্বক মহিলা পুলিশ ছাড়াই চ্যাং ডোলা করে তাদের গাড়ীতে তুলে নেয়। ভোলাহাট-শিবগঞ্জ সড়ক দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিয়ে আসার পথে অজ্ঞাতনামা স্থানে বাগানের মধ্যে নিয়ে বিবস্ত্র করে শালিনতার হানি ঘটাই এবং বেত্রাঘাত করেন এবং অন্যান্য আসামিরা লাথ, কিল, ঘুসি মেরে লিলা, ফুলা জখম করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বিএনপি নেত্রীকে জড়িয়া ধরে শক্তি পরিক্ষার নামে আসামীরা কুরুচিপূর্ণ কথা বলে এবং পৈশাচিক নির্যাতন করে। এসময় চিৎকার চেচামেচি শুরু করিলে মুখ বেঁধে ফেলে তারা। সেই সাথে তার গলাই থাকা ৮ আনা ওজনের লকেট যুক্ত স্বর্ণের বিদেশি চেইন ছিনিয়া নেয়, যার আনুমানিক মূল্য ৭৫ হাজার টাকা।
পরবর্তীতে বাদী শাহনাজকে গভীর রাতে একটা নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে একটি পরিত্যাক্ত ঘরে আটক রাখে। সেখানে শুধু সিসি ক্যামেরা ছিল। সেই নির্জন ঘরে আনুমানিক ভোর ৪টার দিকে আবারও বাদীনির চোখ বেধে ফেলে এবং পেছনে দুই হাত করে হ্যান্ডকাপ দিয়ে শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। সারাদিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর বিকেল ৪টায় একটি পিকআপ ভ্যানে করে বিজ্ঞ আদালতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রথমে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়, তখন বাদী বুঝতে পারে তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর পুলিশ ফাঁড়িতে আটক রাখা হয়েছিল। ডাক্তারের সামনে আসামি হুমকি দিয়ে বলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে এর পরিনাম খুব ভয়ংকর হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসক দিয়ে বাদীকে পুলিশ ভ্যানে তুলে আদালতে নেয়া হয়। আদালতে নেয়ার পর তিনি জানতে পারেন তাকে ভোলাহাট থানার জিআর নং-৫৮/২০২৫ (ভোলাঃ) মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এসময় তাকে বিজ্ঞ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থিত করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন শাহনাজ।

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বুলু বলেন, আটকের পর বিএনপি নেত্রী ও ভোলাহাট উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের শাহনাজ খাতুনের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। আদালতে তিনি নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। আমরা নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩-এর ৫ ধারায় মামলা নিতে আবেদন করেছি। আদালত এ নিয়ে পরে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

পড়ুন: ঝিনাইদহে মশাল মিছিল ও এনসিপি নেতার কুশপুত্তলিকা দাহ

দেখুন:এবার বদরুন্নেসা কলেজের হোস্টেলে ছাত্রী নির্যা*তনের অভিযোগ | 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন