নতুন এক মাইলফলক হিসেবে সফলভাবে নিজেদের হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করলো তুরস্ক।
ইস্তাম্বুলে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা শিল্প মেলা আইডিইএফ ২০২৫-এর উদ্বোধনী দিনে দেশটি তাদের নিজস্ব উন্নত হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘তায়ফুন ব্লক-৪’ উন্মোচন করে। সংবাদ মাধ্যম তুর্কি টুডের প্রতিবেদনে উঠে আসে এই তথ্য।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংস্থা রোকেটসান নির্মিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটির ওজন ২ হাজার ৩০০ কেজি, দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ৫ মিটার এবং এটি প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম। এই মডেলটির বিশেষত্ব হলো এর উচ্চ গতি এবং উন্নত গতিপথ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা।
রোকেটসানের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “দীর্ঘ পাল্লার নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে তায়ফুন ব্লক-৪। ৭ টনের বেশি ওজনের এই নতুন সংস্করণে রয়েছে বহুমুখী ওয়ারহেড, যা দূর থেকে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক হ্যাঙ্গার, নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করতে পারে চোখের নিমিষেই।”
এই সফলতার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাতে তুরস্কের স্বনির্ভরতা এবং কৌশলগত আধিপত্যের পথে অগ্রযাত্রার শুরু করলো দেশটি। আইডিইএফ-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেন, “আজ আমরা শুধু প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়ন দেখছি না, বরং একটি জাতির স্বাধীনতার পথে যাত্রার সাক্ষী হচ্ছি। আমরা আমাদের নিজের আকাশে, নিজের ডানায় ভর করে উঠে দাঁড়ানোর কাহিনি দেখছি।”
তিনি আরও বলেন, “তুরস্ক বহুমুখী অবরোধ, কূটনৈতিক চাপ ও বৈষম্যকে অতিক্রম করে এখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিরক্ষা খাতে নিজের জায়গা করে নিয়েছে।”
আইডিইএফ-এর ১৭তম আয়োজন ছয় দিনব্যাপী এ মেলায় অংশ নিচ্ছে ৪৪ দেশের ৯০০টির বেশি স্থানীয় এবং ৪০০টির বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।
চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাজ্য, কাতার, সৌদি আরব, আজারবাইজান ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের কোম্পানি অংশ নিচ্ছে এই আয়োজনে। প্রদর্শন করা হচ্ছে সামরিক, মহাকাশ এবং বিমান প্রযুক্তির সর্বাধুনিক উদ্ভাবন।
BAE Systems, Rolls-Royce, Lockheed Martin এবং Airbus এর মতো বিশ্বখ্যাত কোম্পানি উপস্থিত রয়েছে এই আয়োজনে। তাদের পাশাপাশি তুরস্কের নিজস্ব প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। মেলায় প্রদর্শিত সামরিক সরঞ্জামগুলোর মধ্যে রয়েছে মূল যুদ্ধ ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, বৈদ্যুতিক যুদ্ধ ব্যবস্থা, কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গাইডেড বোমা এবং মানববিহীন স্থল যান।
আকাশ প্রতিরক্ষা বিভাগে রয়েছে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম, ইউএভি, বিমান ইঞ্জিন ও উপগ্রহ প্রযুক্তি। অন্যদিকে, নৌবাহিনির প্রদর্শনীতে রয়েছে যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, মানববিহীন সামুদ্রিক যান এবং আধুনিক কমান্ড ও কন্ট্রোল প্রযুক্তি।
এবারের মেলায় নিরাপত্তা ও রসদ ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তিও তুলে ধরা হয়েছে, যাতে প্রতিরক্ষা খাতে উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ যুদ্ধ কৌশল কেমন হতে পারে তা নিয়ে সম্যক ধারণা পান দর্শনার্থীরা। ইস্তাম্বুল ফেয়ার সেন্টার, আতাতুর্ক বিমানবন্দর, ওয়াও হোটেল এবং আতাকয় মেরিনাসহ একাধিক স্থানে আয়োজিত হচ্ছে আইডিইএফ ২০২৫।
এ বছর আইডিইএফ ২০২৫-এ বিশ্বের ১০৩টি দেশের মন্ত্রী, সেনাপ্রধান এবং প্রতিরক্ষা বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা খাতের এই উদ্ভাবন শুধু দেশটির সামরিক সক্ষমতা নয়, বরং এর কৌশলগত প্রভাব, আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং স্বকীয়তাকে তুলে ধরছে নতুন এক উচ্চতায়।
পড়ুন: তুরস্কে প্রধান বিরোধীদলের পাঁচ মেয়র গ্রেফতার
এস/


