জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় ফুডকোর্ট নির্মাণ হয়েছে মাস কয়েকদিন আগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াসি গেইটের সামনে এই ফুডকোর্টের নির্মাণ শেষ হলে অদৃশ্য জালে আটকা নতুন এই ফুডকোর্ট। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়েছিল, চলতি মাসেই চালু হবে নতুন এই ফুডকোর্ট। তবে সেই আশ্বাস এইবারেও বাস্তবে রূপ নিচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ফুডকোর্টের উদ্বোধনের কোনো নির্ধারিত তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় বিশ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে একটি মাত্র ক্যাফেটেরিয়া। যেখানে রয়েছে মাত্র ৬০টি আসন। ক্যাফেটেরিয়ায় সকাল-দুপুরে গিয়ে বসার সিট পাওয়াই যেন দূরহ।বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ক্যাফেটেরিয়া থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোন ভর্তুকি দেওয়া হয় না। একটি মাত্র ক্যাফেটেরিয়া থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অধিকাংশ দিনে দুপুর ২টার পরে কখনো কখনো খাবার পায় না। আবার কখনো শিক্ষার্থীদের বাইরে দাঁড়িয়ে খাবার খেতে হয়। এছাড়াও আবার অনেকে বাহিরে গিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার খেতে হয়। যার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্বিতীয় ফুডকোর্ট নির্মাণ করার প্রস্তাবনা করে। পূর্বের বরাদ্দকৃত বাজেট হিসেবে গত সাত মাস পূর্বে ফুডকোর্ট নির্মাণ কাজ শুরু করলে মাস কয়েক আগে ফুডকোর্ট নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে কিন্তু এখনও ফুডকোর্ট চালু হয় নাই। এই নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
ফুডকোর্ট নিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, ১৩ লক্ষ টাকায় ফুডকোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে কিন্তু কাজ শেষ হবার পরেও চালু হচ্ছে না কেন? এ বিষয়ে প্রশাসনের জটিলতা কোথায়? আমরা দেখেছি লিফট স্থাপনের পূ্র্বে ফুডকোর্ট নির্মাণ সম্পন্ন হলেও এখন চালু হচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে
বিশ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মাত্র ক্যাফেটেরিয়া থাকায় শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি তারা যেন দ্রুত ফুডকোর্টটি চালু করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলালউদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, আমাদের ফুডকোর্ট নির্মাণের সমস্ত কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে। এখন এই কাজের দায়িত্ব আর ইন্জিনিয়ারিং দপ্তরের অধীনে নাই তবে আমার জানা মতে ইতোমধ্যে একজন বিক্রেতা ফুডকোর্টের দায়িত্ব পেয়েছে। তিনি আরও বলেন যেহেতু ফুডকোর্টের সমস্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে তাহলে চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই ফুডকোর্টটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নবনির্মিত এই ফুডকোর্টের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড.রেজাউল করিম বলেন, জুলাই মাসে ফুডকোর্ট চালু হচ্ছে না। তবে অতিদ্রুত এটি চালু করা হবে। আমাদের কিছু খুঁটিনাটি বিষয় ছিল যেগুলো ইতিমধ্যে আমরা সমাপ্ত করেছি। অতিদ্রুতই সবাই অফিশিয়ালি চিঠি পেয়ে যাবে। আমরা যেই বিক্রেতার কাছে ফুডকোর্টের দায়িত্ব দিতে যাচ্ছি তার সাথে আমরা ইতোমধ্যে কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।
পড়ুন: দিনাজপুরে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি
দেখুন: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্যাতনের শিকার আরও ৪ ছাত্রী
ইম/


