সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার স্কুল ছাত্র সুমেল হত্যা মামলায় ৮ আসামীকে ফাঁসীর আদেশ দিয়েছে আদালত। সেই সাথে ৭ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে আদালত। আজ বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সিলেটের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক সৈয়দা আমিনা ফারহীন এই মামলার রায় ঘোষনা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর আশিক উদ্দিন।
ফাঁসির দন্ড প্রাপ্তরা হলো যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাইফুল আলম, নজরুল আলম, সদরুল, সিরাজ উদ্দিন, জামাল, রাজন মিয়া শাহিন, আব্দুল জলিল, আনোয়ার হোসেন
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হলো, ইলিয়াছ মিয়া, আব্দুন নুর, জয়নাল, আশিক, আসকির মিয়া, ফরিদ মিয়া, আকবর মিয়া।
২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রাপ্তরা হলেন লুৎফুর রহমান, ময়ুর মিয়া, মামুনুর রশিদ (পলাতক), কাউসার, দিলাফর আলী, পারভেজ, ওয়াহিদ, দিলোয়ার হোসেন,মুক্তার আলী, আব্দুর রকিব, আঙ্গুর আলী, জাবেদ ইসলাম, শফিক, মখলিস আলী, ফিরোজ মিয়া, ফখর উদ্দিন, আজাদ মিয়া।
২০২১ সালের ১ মে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় রাস্তার পাশ থেকে মাটি কাটা নিয়ে চৈতননগর গ্রামের সাইফুল আলম ও নজির উদ্দিনের পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের সময় স্কুলছাত্র সুমেল আহমদ শুকুর গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। সে স্থানীয় শাহজালাল (রহ.) উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। নিহত সুমেল নজির উদ্দিনের ভাই মানিক উদ্দিনের ছেলে।
ঘটনার পর ৩ মে বিশ্বনাথ থানায় ৪ নম্বর হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত সুমেলের চাচা ইব্রাহীম আলী সিজিল। মামলায় ৩২ জনকে আসামি করা হয়। যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাইফুল আলমকে করা হয় প্রধান আসামি। আসামীরা মামলাটিকে ভিন্নখাতে নিতে হাইকোর্ট বিভাগে কমপক্ষে দশটি রীট করে মামলাটি বিলম্বিত করার চেষ্টাকরে ব্যর্থ হয়। আসামীদের মধ্যে মামুনুর রশিদ ছাড়া সবাই রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন। মামুনুর রশিদ শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত বুধবার মামলার রায় দেন, যেখানে ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়।
পড়ুন : ব্রিটেনে স্ত্রীকে খুনের দায়ে সিলেটের হাবিবুর মাসুমকে ২৮ বছরের সাজা


