দিনাজপুরের খানসামায় ইপিজেড কর্মীকে ভুট্টা খেতে ধর্ষণের চেষ্টা নিয়ে এলাকায় চলছে, নানান গুঞ্জন।ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের আরজী জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের ডাঙ্গারহাট এলাকায়।
ভুক্তভোগীর এজাহার সূত্রে জানা যায়, সে নীলফামারী জেলা উত্তরা ইপিজেড এ চাকুরী করে। অভিযুক্ত শাহিন ইসলাম পেশায় একজন মোবাইল মেকার, অত্র উপজেলার পাকেরহাট বাজারে তার মোবাইল সার্ভিসিং এর দোকান আছে। আরেক অভিযুক্ত ফরহাদ হোসেন অভিযুক্ত শাহীনের চাচাতো ভাই। আনুমানিক ০৩ মাস পূর্বে সে তার ব্যবহৃত ১টি স্মার্ট মোবাইল ফোন সার্ভিসিং করার জন্য অভিযুক্ত শাহীনের দোকানে যায়।মোবাইল ঠিক হলে জানাবে বলে তার মোবাইল ফোন নাম্বার নেয়।
আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ দিন পর ফোন ঠিক হয়েছে মর্মে শাহিন তাকে জানালে মোবাইল ফোনটি নিয়ে আসে ৷ পরবর্তীতে অভিযুক্ত শাহিন ইসলাম গুগলের মাধ্যমে ব্যবহৃত নম্বর দিয়ে কল করে কথা বলার চেষ্টা করতো এবং একপর্যায়ে ফোনের মাধ্যমে প্রেম ভালোবাসার কু-প্রস্তাবসহ তার সাথে একাকী দেখা করার জন্য বিভিন্ন ভাবে অনুরোধ জানাতো ভুক্তভোগী ওই ইপিজেড কর্মীকে।
ভুক্তভোগী ওই ইপিজেড কর্মী আরও বলেন, সে বিবাহিত, তার স্বামী, সন্তান ও সংসার আছে বলে অভিযুক্ত শাহিন ইসলামকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও শাহিন ইসলাম তাকে বিয়ে করার জন্য বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখাত।
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় ইপিজেড ছুটি শেষে তার বাবার বাড়িতে আসার সময় শাহীন ও ফরহাদ ও তার চাচাতো ভাই রাস্তায় দেখতে পায় এবং তার পিছে পিছে মোটরসাইকেল যোগে আসে।
অভিযুক্ত শাহিন ফোন করে জরুরী কথা আছে বলে বাড়ি থেকে বের হতে বলে। অভিযুক্ত শাহীনের কথায় সরল বিশ্বাসে বাড়ীর বাইরে আসলে বলে তার সাথে জরুরী কথা আছে চলো একটু নিরিবিলি জায়গায় যাই, তা না হলে কেউ দেখে ফেলবে” এই কথা বলে অনুমান ১০ গজ পূর্বে জনৈক আব্দুল হামিদের ভুট্টা ক্ষেতের মধ্যে জোরপূর্বক নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর অভিযুক্ত শাহিন ইসলাম জড়িয়ে ধরে এবং ভূট্টা ক্ষেতের মধ্যে ধস্তাধস্তিসহ পরিহিত জামা কাপড় খুলে ধর্ষনের চেষ্টা করে।
উক্ত সময় সে চিৎকার করলে অনেকেই এগিয়ে আসে। ঘটনাস্থলে তাদের ব্যবহৃত একটি রেজিঃ বিহীন লাল রংয়ের হিরো স্পেলেন্ডার প্লাস রেখে যে যার মত দ্রুত ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বলেন, আমি এই ঘটনায় থানায় এজাহার দায়ের করেছি। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শাহীন আলমের ও থানায় করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সে দিন রাতে তার বাড়িতে মোটরসাইকেলে করে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বললে সরল বিশ্বাসে তাকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গেলে ছমির উদ্দিন খোচার ছেলে সাইদুল ইসলাম সাধু ও আবু সুফিয়ান, জহির উদ্দিনের ছেলে মো. মোস্তাকিন, মো. নাদেরের মো. মমিনখাঁ, ছয়ফুদ্দিনের মো. জামিয়ার (৩৫)। তারা পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে তার মোটসাইকেলের সামনে এসে চাবি কেড়ে নেয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তগন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে।
অভিযুক্তদের গালিগালাজ করতে বাধা নিষেধ করায় সকল অভিযুক্তগন এলোপাথারীভাবে কিলঘুষি লাঠি গুড়ি মেরে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফুলা কালশিরা জখম করে সেই সাথে প্রাননাশের হুমকী প্রদান করে।
এ বিষয়ে সত্যতা জানতে শাহীন আলমের ব্যবহৃত মুঠোফোনে ফোন দিলে বলে, এ নিয়ে যে অভিযোগ দিয়েছে সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। বরং সে যেই অভিযোগটি দিয়েছি এটি সত্য।
এ ঘটনায় খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) নজমূল হক বলেন, আমি দুটো অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ দুটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পড়ুন: বালুমহাল বন্ধের দাবিতে দিনাজপুরের খানসামায় মশাল মিছিল
দেখুন: দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সুপেয় পানির সংকট, জনজীবন বিপর্যস্ত |
ইম/


