নীলফামারীর সৈয়দপুরে আন্তর্জাতিক লিডারশিপ প্রোগ্রাম অন এডুকেশন (আইএলপিই-৬.০) প্রতিযোগিতার রংপুর বিভাগীয় আঞ্চলিক রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (২ মে) বিশ্বখ্যাত শিক্ষা বিষয়ক জিআইএসটি ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ (কলেজ) খোন্দকার আব্দুল আলিম।
তিনি তাঁর বক্তব্যে ইভেন্টের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নেতৃত্ব কেবল পদ মর্যাদায় নয়, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা ও কার্যকর যোগাযোগ ক্ষমতার মধ্যে নিহিত। আইএলপিই-৬.০ এর মতো প্রতিযোগিতাগুলো আমাদের শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তিকে প্রসারিত করে এবং তাদের বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি এ ধরনের উচ্চতর নেতৃত্ব গঠনমূলক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অপরিহার্য।
আয়োজক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রতিযোগিতা পর্যবেক্ষক ছিলেন সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক কোরাইশী আবু মশিউর। তিনি বলেন, জিআইএসটি ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন সব সময়ই গুণগত শিক্ষা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশে কাজ করে। রংপুর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মাঝে যে মেধা ও স্বতঃস্ফূর্ততা আমরা দেখেছি, তা সত্যিই আশাব্যঞ্জক। এই প্ল্যাটফর্মটি তাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের একটি অনন্য সুযোগ করে দিচ্ছে।
রংপুর বিভাগীয় এই রাউন্ডের সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. সোহেল রানা। তিনি প্রোগ্রামের কারিগরি ও প্রতিযোগিতামূলক দিকগুলো তুলে ধরে জানান, এই রাউন্ডে চারটি ক্যাটাগরিতে অত্যন্ত উচ্চমানের প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে ইংলিশ অলিম্পিয়াড এবং প্রাইমারি ও জুনিয়র ক্যাটাগরিতে শব্দ চয়ন ও উচ্চারণ শৈলির পরীক্ষা স্পেলিং বি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে তাদের নেতৃত্ব গুণ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা প্রতিফলিত হবে।
এবারের আয়োজনে রংপুর বিভাগের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অনলাইনে নিবন্ধিত করে এবং প্রায় ২০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থী অফলাইনে এ ভেন্যুতে উপস্থিত হয়ে তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখেন। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক অভিভাবক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষাবিদ এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী, বিভাগীয় পর্যায়ের সেরারা জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত বিজয়ীরা চলতি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন নগরী বালিতে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ড ফিনাল এ অংশ গ্রহণের গৌরব অর্জন করবেন। সেখানে তারা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকাকে প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব ও সংস্কৃতির আদান- প্রদানের সুযোগ পাবেন।
পড়ুন : গাইবান্ধায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতা’র উদ্বোধন


