ব্রাজিল, চীন, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং রাশিয়াসহ উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকস ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার বিষয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে এই হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন’ এবং জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করেছে।
ইরান ওইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর জারি করা এক বিবৃতিতে ব্রিকস এ কথা জানায়। বুধবার (২৫ জুন) এক প্রতিবেদনে এতথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ব্রিকস গ্রুপ ইরানের ‘শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা’য় হামলার সমালোচনা করেছে। জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ’র আন্তর্জাতিক আইন এবং নিয়ম লঙ্ঘন করে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিকস।
ব্রিকস উভয়পক্ষকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের মতপার্থক্য সমাধানের লক্ষ্যে কূটনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।
ব্রিকস, যার সদস্য ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও, বলেছে যে আলোচনার মাধ্যমে ‘সহিংসতা থেকে বেরিয়ে শান্তি পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন’।
টানা ১২ দিন হামলা-পাল্টা হামলার পর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। দুপক্ষকেই তা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার ভোরে দফায় দফায় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বেরশেভায় কয়েকটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নারী ও শিশুসহ হতাহত হন কয়েকজন। যদিও, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর দাবি, সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করেই ছোড়া হয় ক্ষেপণাস্ত্র।
পাল্টা তেহরানের সামরিক ও পরমাণু স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানোর দাবি করে ইসরায়েলি বাহিনী। এই ঘটনায় ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানীসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও, বেশিরভাগ হামলা প্রতিহতের কথা জানায় আইআরজিসি।
পাল্টাপাল্টি হামলার পরই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় দেশ দুটি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক বিবৃতিতে নিশ্চতি করা হয়। অল্প সময় পরই বিবৃতি দেয় ইসরায়েল সরকার। এতে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে রাজি হয়েছে দেশটি।
পড়ুন: যুদ্ধবিরতির পর ইরানের ঘরে ঘরে ‘বিজয়’ উৎসব
এস


