বিজ্ঞাপন

এডিবি’র ৭০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনায় যা আছে

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ গ্রিড সংযোগ এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০৩৫ সালের মধ্যে ৭০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

রোববার (৩ এপ্রিল) উজবেকিস্তানের সমরকন্দে অনুষ্ঠিত এডিবির বার্ষিক সম্মেলনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং এশিয়া জুড়ে ব্রডব্যান্ড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।

এডিবি’র প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা জানান, জ্বালানি এবং ডিজিটাল সেবা এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। এই দুটি উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ গ্রিড ও ডিজিটাল নেটওয়ার্ককে সীমান্ত ছাড়িয়ে একীভূত করার ফলে সেবার খরচ কমবে এবং লাখ লাখ মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই মহাপরিকল্পনার অধীনে দুটি প্রধান অংশ রয়েছে যার একটি হলো প্যান-এশিয়া পাওয়ার গ্রিড এবং অন্যটি এশিয়া-প্যাসিফিক ডিজিটাল হাইওয়ে।

প্যান-এশিয়া পাওয়ার গ্রিড উদ্যোগের আওতায় ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের জাতীয় গ্রিডগুলোকে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে, যাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহজেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে প্রবাহিত হতে পারে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে এবং প্রায় ২২ হাজার সার্কিট-কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে।

এর ফলে ওই অঞ্চলের প্রায় ২০ কোটি মানুষের জ্বালানি সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং বিদ্যুৎ খাতের কার্বন নিঃসরণ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাবে। এই ৫০ বিলিয়ন ডলারের অর্ধেক এডিবি নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে এবং বাকি অর্ধেক বেসরকারি খাত ও অন্যান্য অংশীদারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে।

অন্যদিকে, ২০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এশিয়া-প্যাসিফিক ডিজিটাল হাইওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডিজিটাল করিডোর, ডাটা সেন্টার এবং সাবমেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা হবে। এর ফলে ২০৩৫ সালের মধ্যে ওই অঞ্চলের প্রায় ২০ কোটি মানুষ প্রথমবারের মতো ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের আওতায় আসবে এবং আরও ৪৫ কোটি মানুষ উন্নত গতির ইন্টারনেট সুবিধা পাবে। বিশেষ করে দুর্গম ও স্থলবেষ্টিত দেশগুলোতে ইন্টারনেটের খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে একটি সেন্টার ফর এআই ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্থাপন করা হবে যা প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে ডিজিটাল দক্ষতা ও এআই বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বাধ্যতামূলক অবসরে পুলিশের ১৬ ডিআইজি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন