বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম টেলিভিশন রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক এর প্রতিবাদী বিবৃতি

আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি যে, সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের দুর্নীতি ও অনিয়ম সংক্রান্ত সংবাদ ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ( চ্যানেল টোয়েন্টিফোর) প্রচারিত হওয়ার পর সিএমপি কমিশনার নিজে একটি প্রতিবাদপত্র দেন। যেখানে সংবাদের প্রতিবাদের পাশাপাশি সাংবাদিকদের উদ্দেশে হুমকিমূলক বার্তা দেয়া হয়েছে। আমরা এই আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

গণমাধ্যমের কাজ হলো জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ ও জনগণের সামনে তা উপস্থাপন করা। দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকদের সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার। এর ফলে যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, তবে সেটি তাদের কার্যকলাপের ফলাফল—সাংবাদিকতার নয়।

আমরা মনে করি, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি, হুমকি বা অপপ্রচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন কর্মকাণ্ড শুধু গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করে না, বরং দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। একইসাথে বর্তমান সরকারের মুক্ত গণমাধ্যম নীতিরও পরিপন্থী।

নিয়মতান্ত্রিক পন্থা হচ্ছে, যেকোন সংবাদ প্রচারিত/প্রকাশিত হলে তার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। কিন্তু তা না করে সাংবাদিকদের উপর দায় চাপিয়ে নিজেদের অনিয়মকে আড়াল করার যে প্রয়াস চালানো হচ্ছে, তা একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করছি—সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে সত্য দমন করা যাবে না। বরং সাংবাদিকদের প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত যদি ভ্রান্ত মনে হয়, তবে যথাযথ তথ্য প্রমাণসহ জবাব দেয়াই সঠিক পন্থা। কিন্তু কমিশনারের বিবৃতিতে তার ব্যতয় হয়েছে বলে মনে করি। বরং বিবৃতির ভাষা তথ্যপ্রমাণভিত্তিক নয়, সেটি একবারেই ঢালাও। একইসাথে ক্ষমতা জাহির করারও প্রয়াস মনে হয়েছে।

আমরা এটাও লক্ষ্য করছি, গত কয়েকমাস ধরে তথ্য যাচাই বা তথ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সিএমপির বিভিন্নস্তরে অসহযোগিতার শিকার হচ্ছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। যাতে সঠিক তথ্য পরিবেশনে অন্তরায়।

আমরা দৃঢ়ভাবে জানাতে চাই—সাংবাদিক সমাজ দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে নির্ভীকভাবে কাজ করে যাবে। পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে প্রদত্ত হুমকিমূলক বিবৃতিটি আমরা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। একইসাথে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করছি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

বিবৃতিদাতারা হলেন, চট্টগ্রাম টেলিভিশন রিপোর্টাস নেটওয়ার্কের আহবায়ক হোসাইন জিয়াদ, যুগ্ম আহবায়ক একে আজাদ, সদস্য আরিচ আহমেদ শাহ, ফখরুল ইসলাম, সৈয়দ তাম্মিম মাহমুদ, ফেরদৌস লিপি, শহিদুল সুমন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন: চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট নিরসনে এনবিআরের কঠোর নির্দেশনা

এস/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন