দিনাজপুর এক বিএনপি’র নেতার আকুতি আমি দুরারোগ্য ব্যাধি ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। কিন্তু দলের কোন নেতা আমার খোঁজ-খবর নেয় না। আমার তিন মেয়ে ও স্ত্রীর প্রশ্ন, বিগত ১৭ বছর পলাতক থেকে আন্দোলন করে হামলা মামলা, হাজত খেটে তুমি কি পেলে?
আক্ষেপ করে কথাগুলো বললেন দিনাজপুর পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান পৌর বিএনপির নির্বাহী সদস্য (কেন্দ্রীয় নির্দেশে) মোঃ আব্দুল মান্নান সরকার।
তিনি বলেন, আমি ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে খাল খনন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত হই। আমি দিনাজপুর সরকারি কলেজের প্রথম ছাত্র সংসদের সদস্য নির্বাচিত হই। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে এম এ জলিলের ধানের শীষের পক্ষে পৌর নির্বাচন পরিচালনা কর্মসূচি যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পালন করি। ১৯৯২ সালে আমি দিনাজপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক এবং ভারপ্রাপ্ত আহবায়কের দায়িত্ব পালন করি। তৎকালীন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি আলমগীর সরকারের (নীলফামারী) উপস্থিতিতে জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করি। আমি শিক্ষকতা করার কারণে নিজে কোন দায়িত্বশীল পথ না নিয়ে জেলা যুবদলের নির্বাহী সদস্যের ১ নম্বর পদ গ্রহণ করি। পরে আমি পৌর বিএনপি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি এবং ২০০১ সালে পৌর বিএনপি’র অন্তর্গত দিনাজপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে পৌর কমিটির সম্পাদকমন্ডলিতে জায়গা পাই।
২০০১-২০০৯ পর্যন্ত তিন তিন বারের ৬ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার সুবাদে ২০০৫ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃণমূল প্রতিনিধি (ঠাকুরগাঁও) সম্মেলনে যোগ দেই এবং তার সাথে কথা হয়।
২০০৯ সালে দিনাজপুর পৌর বিএনপির কাউন্সিলে সমঝোতার মাধ্যমে আমি সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হই এবং দিনাজপুর পৌর বিএনপিকে স্ব-নির্ভর শক্তিশালী করে গড়ে তুলি।
২০২০ সালে দিনাজপুর পৌর বিএনপির কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করে হেরে যাই। কাউন্সিলে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি আর আমার সঙ্গে কতিপয় নেতার চরম বিরোধিতা ও অসহযোগিতার কারণেই আমি পরাজিত হই। যার ফলশ্রুতিতে আমার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকায় বেশ কয়েকজন নেতাসহ আমাকে পৌর বিএনপি’র সদস্য পদও দেওয়া হয়নি। পরে আমি বাধ্য হয়ে সরাসরি তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব বরাবরে হোয়াইট অ্যাপস এ বিষয়টি অবগত করলে কেন্দ্রীয় নির্দেশে আমাকে পৌর বিএনপির নির্বাহী সদস্য পদ দেওয়া হয়।
আমি বিগত আন্দোলনে ২০১৩ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সম্মুখসারিতে থেকে এবং প্রত্যেক টিমের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে অনেক মামলা ও হামলার শিকার হয়েছি। দিনাজপুর জেলায় একমাত্র আমি ২০১৩ সালে লাগাতার হরতাল-অবরোধ চলাকালীন সন্ত্রাসী আওয়ামী যুবলীগ ছাত্রলীগের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে টানা ৭ দিন গোপনীয়ভাবে চিকিৎসাধীন ছিলাম। একমাত্র এজন্যই বললাম যে, গত ২৭ নভেম্বর ২০১৩ তারিখ বুধবার জেলা মহিলাদলের সভানেত্রী মরহুমা বেগম রেজিনা ইসলাম ও সাবেক কাউন্সিলর মাসতুরা বেগম পুতুলসহ অর্ধশতাধিক নারী নেত্রী এবং পৌর বিএনপি’র নেতাদের নিয়ে নেত্রীদের দিনাজপুর সরকারি কলেজ মোড় আমার নেতৃত্বে অবস্থান করেছিলাম। তৎকালীন কোতওয়ালি থানার এসআই মোকলেসের উসকানিতে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। যার প্রত্যক্ষদর্শী দিনাজপুরের সিনিয়র সাংবাদিক মাহবুবুল হক খান (বর্তমানে আমার দেশ-এর দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি)। তাৎক্ষণিক জেলা বিএনপির সাহসী সাধারণ সম্পাদক মরহুম মুকুর চৌধুরী আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা নেন এবং ঘটনার পরের দিন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দিনাজপুর জেলায় হরহাল ঘোষণা করেন।
জেলা বিএনপি’র সকলেই জানেন জিয়াউর রহমান শহীদ হওয়ার পর প্রতিবছর তার মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিকূল অবস্থায় এবং করোনাকালিন বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে আমি আমার বাড়িতে উক্ত দিবস পালন করি। উক্ত অনুষ্ঠানে মরহুম রেজিনা ইসলাম, আরহাজ্ব মাহবুব আহম্মেদ, মোস্তফা কামাল মিলন, হাসনাহেনা চৌধুরী হীরাসহ অনেক নেতাকর্মী আমার এই অনুষ্ঠানে শরীক হয়েছেন। আমার পারিবারিক সব অনুষ্ঠানে পৌর বিএনপি’র বারোটি ওয়ার্ডের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ করেছি।
কারণ আমি কোন ভাইয়ের রাজনীতি করি না। আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করি।
বিএনপির এই নেতা আব্দুল মান্নান সরকার বলেন, বর্তমানে “আমি দুরারোগ্য ব্যাধি ডায়াবেটিসসহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। কিন্তু দলের কোন নেতা আমার খোঁজ-খবর নেয় না। আমার তিন মেয়ে ও স্ত্রীর প্রশ্ন, বিগত ১৭ বছর পলাতক থেকে আন্দোলন করে হামলা-মামলা, হাজত খেটে তুমি কি পেলে? প্রশ্নবানে জর্জরিত করায় আমার মনের আবেক কথাগুলো বললাম, ভুল হলে ক্ষমা করবেন। আর আমার সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন।”


