নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাছুম মোস্তফার ওপর অতর্কিত হামলা, তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় পূর্বধলা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক আবু তাহের তালুকদার এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক ইশতেয়াক আহমেদ বাবুসহ ৬৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. হাফিজুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযোগ দাখিলের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত এক আসামিসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য আদালতে সোপর্দ করা হবে।
সংসদ সদস্যের সহকারী ও এ মামলার বাদী মো. আল আমীনের দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল (শুক্রবার) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে এমপি মাসুম মোস্তফা হোগলা ইউনিয়নের শাইখুল হাদিস আল্লামা আহমাদ হোসেন কওমি মাদরাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে ফাজিলপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে পূর্বধলা ইউনিয়নের আতকাপাড়া এলাকায় অবস্থিত গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার জন্য থামলে তিনি অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেল আরোহীদের দেখে গাড়ি থেকে নেমে তাদের সমস্যার কথা জানতে চান। কথা বলা শেষে মাগরিবের আজান দিলে তিনি সঙ্গীদের নিয়ে ফিলিং স্টেশনের নামাজখানায় প্রবেশ করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নামাজরত অবস্থায় সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৩৫ মিনিটে ফিলিং স্টেশনের ভেতরে এমপির নাম ধরে ডাক-চিৎকার ও গাড়ি ভাঙচুরের শব্দ পাওয়া যায়। বাদী ও সাক্ষীরা নামাজ শেষে বাইরে এসে দেখতে পান, বিবাদীরাসহ অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জন লোক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এমপির ব্যবহৃত সাদা রঙের নোহা গাড়িটি ভাঙচুর করছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আবু তাহের তালুকদারের হুকুমে ও নেতৃত্বে সকল বিবাদীরা হত্যার উদ্দেশ্যে বাদী ও সাক্ষীদের দিকে লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে এগিয়ে আসে। এ সময় কাজী মমিনুল ইসলাম মুন্না এবং রাজিবুল ইসলাম রাজিব তাদের হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে সাক্ষী তাজুল ইসলাম বাবুল ও মহিউদ্দিনকে পিটিয়ে জখম করে। এছাড়া, আনার নামের এক ব্যক্তি লোহার রড দিয়ে তাজুল ইসলাম বাবুলের বাম পায়ের হাঁটুর নিচে আঘাত করে হাড় ভেঙে গুরুতর জখম করে।
হামলার মুখে প্রাণরক্ষার্থে বাদী ও সাক্ষীরা দৌড়ে মসজিদের ভেতর প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেন এবং এমপি মহোদয়সহ নিজেদের রক্ষা করেন। তখন বিবাদী ইশতেয়াক আহমেদ বাবু, সোলায়মান কবির পাপ্পু, মামুন, জাহাঙ্গীর আলম এবং সাজু আহম্মেদ হাতে থাকা বাঁশ ও লোহার রড দিয়ে দরজায় সজোরে আঘাত করতে থাকে এবং তাদেরসহ এমপিকে গুম করে খুন করার হুমকি দেয়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি ইউএনও ও প্রশাসনকে অবহিত করলে, তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলাকারীদের তাণ্ডবে এমপির ব্যবহৃত গাড়িটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য বারো লক্ষ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত ও পূর্বধলা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক আলহাজ্ব আবু তাহের তালুকদার দাবি করেছেন, তিনি ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না এবং এটি উদ্দেশ্যমূলক মামলা। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি ঢাকা থেকে নেত্রকোনার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং তারা মিছিলও করেছিল। ফিলিং স্টেশনে তেল দেওয়া নিয়ে এমপির সহকারীর সাথে তর্কবিতর্ক থেকে এ বিচ্ছিন্ন ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে বলে তিনি জানান।
আবু তাহের আরও দাবি করেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তার দলের নেতৃবৃন্দকে পাঠিয়েছিলেন এমপিকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এমপিকে নিরাপদে পৌঁছে দিয়েছেন। এর পেছনে বিরোধী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা দলের ভেতরের কোন্দলও জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা দাবি করেছেন, আবু তাহের তালুকদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও তিনিই এ হামলার মূল নির্দেশদাতা। আবু তাহের সবকিছু করাচ্ছেন এবং নির্দেশদাতা হিসেবে তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই, তিনি হুকুমের আসামি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আবু তাহের তালুকদার নেপথ্যে থেকে সবকিছু পরিচালনা করছেন এবং প্রকাশ্যে দলের যুগ্ম-আহবায়ক ইশতেয়াক আহমেদ বাবু এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং পরিবেশ নষ্ট করেছেন।
পড়ুন- আবার বন্ধ হয়ে গেল বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন


