বিজ্ঞাপন

তামাক খাতে ৮৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

তামাক খাতের অসম কর কাঠামোর কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্র প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে বলে দাবি করেছে ন্যাশনাল সিগারেট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

‘সিগারেট ইন্ডাস্ট্রি ওভারভিউ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বাজারের একটি বড় অংশ কর জালের বাইরে চলে যাওয়া এবং অবৈধ সিগারেটের দাপট বেড়ে যাওয়ায় এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে সরকারকে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। এদিন প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন আবুল খায়ের টোব্যাকোর কর্মকর্তা শেখ শাবাব আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিএটি, জাপান টোব্যাকো ও ফিলিপ মরিসের কর্মকর্তারা।

শেখ শাবাব বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাতের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনকভাবে কমে ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১৪ শতাংশ। অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটের পর বাজারের প্রায় ২০ শতাংশ ভলিউম বা সিগারেট বিক্রির সক্ষমতা হারিয়ে গেছে। এই হারিয়ে যাওয়া ২০ শতাংশ ভলিউম থেকেই মূলত ৮,৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির হিসাব করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৫ বছরে উচ্চবিত্তদের সিগারেটের কর মাত্র ২ শতাংশ বাড়লেও নিম্ন আয়ের মানুষের ব্যবহৃত লো সেগমেন্ট বা কম দামি সিগারেটে কর বেড়েছে ১০ শতাংশ। বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ হলেও এই সেগমেন্টে দাম বাড়ানো হয়েছে ২০ শতাংশ পর্যন্ত, যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। অতিরিক্ত কর বৃদ্ধির ফলে উৎপাদনকারীদের জন্য লো সেগমেন্ট এখন অলাভজনক হয়ে পড়েছে। যেখানে অন্যান্য উচ্চস্তরের সিগারেটের উৎপাদন মুনাফা ইতিবাচক, সেখানে নিম্নস্তরের সিগারেটের উৎপাদন মুনাফা ২ শতাংশ কমে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমানে বাজারে বিক্রিত মোট সিগারেটের প্রায় ১৫ শতাংশই অবৈধ বা কর ফাঁকি দেওয়া। প্রায় ১৮০০ কোটি স্টিক সিগারেট এখন কর জালের বাইরে বিক্রি হচ্ছে। দেশে ৩০টিরও বেশি সিগারেট কারখানা এবং তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র থাকলেও কঠোর নজরদারির অভাবে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অবৈধ বিদেশি সিগারেটের বাজারে লাগাম টেনে ধরতে সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর বা এআর কোড অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে এনবিআর। এর মাধ্যমে ভোক্তারা নিজেই যাচাই করতে পারবেন যে, পণ্যটি থেকে সরকার কর বা রাজস্ব পেয়েছে কি না।

এনবিআর চেয়ারম্যান এ সময় সিগারেটের ওপর থাকা ৮৩ শতাংশ ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক এবং স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আর না বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন। তবে দাম বাড়ানো হতে পারে জানিয়ে সেটি কীভাবে বা কত টাকা বাড়ানো যেতে পারে, তা নিয়ে উৎপাদনকারী এবং এনবিআরের নীতি অনুবিভাগের একত্রে কাজ করার কথা বলেন তিনি।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা মোটামুটি ডিটারমাইন্ড (দৃঢ়প্রতিজ্ঞ) যে ৮৩ শতাংশের ওপরে (করভার) আর যাওয়ার সুযোগ নেই এবং সেটা নিয়ে আমরা চিন্তা করছি না। এখন নেক্সট যেটা করতে হবে, সেটা আইদার আপনারা যেটা বলেন যে সিগারেটের প্রাইস মেকানিজমটা ঠিক করে অথবা এটাকে পার স্টিক করে অথবা মিক্সড পদ্ধতি করে। মানে সারা পৃথিবীতে যতগুলো পদ্ধতি চালু আছে, সেগুলো যাচাই করব।

নির্দিষ্ট হারে কর বসানোর ক্ষেত্রে সকল দেশি-বিদেশি কোম্পানি এবং বিএটি ও জেটিআই প্রতিনিধিরা ‘একমত’ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবাই একমত হওয়াটা তো কঠিন, সময়সাপেক্ষ এবং ঝামেলা লেগে যায়। সমস্যাটা হলো এই জায়গায় আরকি। যখনই বলা হয় সবাই একসাথে হব, একেকজনের ইন্টারেস্ট একেক দিকে টানে এবং এতে একমত হওয়া যায় না।

এদিকে বাংলাদেশ বিড়ি শিল্প মালিক সমিতি তাদের বাজেট প্রস্তাবে বিড়ির লাইসেন্স থাকলেই ন্যূনতম কর প্রদানের সীমা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ইভিএম কেনায় ৩৮২৫ কোটি টাকার নয়ছয়, তদন্তে নেমেছে দুদক

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন