থাইল্যান্ডের রাজপরিবারকে অবমাননার অভিযোগে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। থাকসিন সিনাওয়াত্রা ও তার আইনজীবীর বরাতে এ খবর জানিয়েছে আল জানিয়েছে।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) ব্যাংককের একটি আদালত ত্যাগ করার সময় ৭৬ বছর বয়সি থাকসিন সিনাওয়াত্রা বলেন, ‘মামলা খারিজ হয়ে গেছে’। তার আইনজীবী ওইনিয়াত চাতমনত্রি বলেন, ‘আদালত শুনানিতে উত্থাপন করা প্রমাণ অপর্যাপ্ত অভিহিত করে থাকসিনের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন।’
ব্যাংককের ওই আদালতও নিশ্চিত করেছেন, প্রমাণের অভাবে মামলা খারিজ করে দেয়া হয়েছে। রায় শোনার পর আদালতের বাইরে থাকসিনের সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। এ সময় অনেকেই লাল শার্ট পরেছিলেন, যা থাকসিনের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের প্রচারণার রঙ।
শুক্রবার সকালে রায় ঘোষণার সময় থাকসিনের শতাধিক সমর্থক আদালতের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন। তাদের একজন ব্যাংককের ৬৬ বছর বয়সি খাদ্য বিক্রেতা কমল ওরাহান্তা। তিনি বলেন, ‘আদালত তার কাজ সঠিকভাবে করেছেন। কিন্তু আমার মনে হয় না আমরা আরামে বসে থাকতে পারি।’
কমল আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এখনও কিছু বিদ্বেষী আছেন যারা অন্য উপায়ে তাকে উৎখাত করার চেষ্টা করবেন।’
থাইল্যান্ডের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে সাংবাদিকদের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘এতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব পড়বে না, কারণ এটি একটি স্বাধীন বিচারিক প্রক্রিয়া।’
ফুমথাম আরও বলেন, থাকসিন প্রতিষ্ঠিত তার ক্ষমতাসীন ফিউ থাই পার্টি সিনাওয়াত্রা পরিবারের সদস্যদের সামনে নানা আইনি বাধা সত্ত্বেও ‘উচ্চ মনোবল’ বজায় রেখেছে।
প্রায় এক দশক আগে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংবাদপত্রকে দেয়া সাক্ষাৎকার দেন থাকসিন। সেই সাক্ষাৎকারে থাই রাজপরিবারকে অবমাননা করা হয়েছে দাবি করে তার বিরুদ্ধে থাইল্যান্ডের লেসে মাজেস্তি আইনে মামলা করা হয়। দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতো।
লেসে মাজেস্তি আইন অনুযায়ী রাজপরিবারকে হুমকি দেয়া বা কোনোভাবে অপমান করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে সমালোচকদের মতে, এ আইন প্রায়ই আন্দোলনকারী কিংবা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমনে ব্যবহৃত হয়।
শুক্রবার আদালতের রায় থাকসিনের জন্য স্বস্তির কারণ হলেও সিনাওয়াত্রা পরিবারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখনও নিশ্চিত নয়। কারণ থাকসিনের মেয়ে এবং থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাও এখন বিচারাধীন।
কম্বোডিয়ার সাথে সীমান্ত বিরোধ মোকাবিলায় যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করার অভিযোগে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়। আগামী সপ্তাহে আদালতের রায়ের হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে তাকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হতে পারে।
পড়ুন: ফোনালাপ ফাঁসের জেরে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত
এস/


