বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনায় পৌনে ৩ লাখ টাকাসহ ‘নগদ’ কর্মী নিখোঁজ: অপহরণ নাকি আত্মগোপন ?

নেত্রকোনায় মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ এর মো. রায়হান উদ্দীন মুন্না (২২) নামের এক কর্মী প্রায় পৌনে তিন লাখ টাকাসহ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। গত ২৭ এপ্রিল বিকেল থেকে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত চার দিন ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি কি বিপুল পরিমাণ টাকাসহ অপহৃত হয়েছেন, নাকি নিজেই আত্মগোপনে গেছেন- তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এ ঘটনায় কেন্দুয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং পুলিশ নিখোঁজ কর্মীকে উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

নিখোঁজ রায়হান উদ্দীন মুন্না নেত্রকোনা শহরের সাতপাই (বড় স্টেশন রোড) এলাকার মো. মহিম উদ্দিন ও জাহানারা বেগম দম্পত্তির ছেলে। তিনি নগদের ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার (ডিএসও) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নগদের ডিস্ট্রিবিউশন ম্যানেজার শাওন হাসান কর্তৃক কেন্দুয়া থানায় দায়ের করা জিডি থেকে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে মুন্না কেন্দুয়া মধ্যবাজার থেকে নেত্রকোনা ছোটবাজার অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি যথাসময়ে অফিসে পৌঁছাননি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। নিখোঁজ মুন্নার উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি, গায়ের রং কালো এবং নিখোঁজ হওয়ার সময় তার পরনে ছিল কালো রঙের ফুলহাতা শার্ট।

নগদের নেত্রকোনা ডিস্ট্রিবিউটর (এম আর কন্সট্রাকশন) এর স্বত্বাধিকারী মো. মোখলেছুর রহমান জানান, নিখোঁজ হওয়ার সময় মুন্নার কাছে কোম্পানির তিন লক্ষ ৯৩ হাজার একশো টাকা ছিল। তিনি বলেন, ‘সে নিজের থেকে উধাও হয়েছে নাকি তাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে নিখোঁজ কর্মীর চাচা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, ছেলের সন্ধান পাওয়া গেলে টাকার দায়িত্ব তারা নেবেন।’

মুন্নার পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন পার করছেন এমন তথ্য জানান তার চাচা ইসলাম উদ্দিন (যিনি পৌরসভায় কর্মরত)। তিনি বলেন, ‘গত ২৭ তারিখ বিকেল থেকেই মুন্না নিখোঁজ। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। তিনি আরও জানান, মুন্নার বাবা হার্টের রোগী, ছেলের এমন খবরে তিনি অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।’

কোম্পানির টাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা গ্যারান্টার হয়েছি, তাই টাকার ব্যবস্থা আমরা যেকোনোভাবে করে দেব, শুধু ছেলেকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত চাই।’

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী মাকসুদ জানান, নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ছেলেটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “মোবাইল ট্র্যাকিং করে দেখা গেছে, ২৭ তারিখ বিকেল ৩টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত তার মোবাইলের সর্বশেষ লোকেশন ছিল ‘সাউথ পাড়া’ এলাকায়।” কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) হাতে পেলে তদন্তে আরও অগ্রগতি হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

টাকা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে মুন্নাকে কেউ অপহরণ করেছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে, তা পুলিশি তদন্ত এবং মুন্নাকে উদ্ধারের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পড়ুন- গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দিলো ১১ দলীয় জোট

দেখুন- চীন-ইরান তৈরি করছে নতুন বিশ্বব্যবস্থা?

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন