নেত্রকোনার মদন উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে পলাশ মিয়া ও টিটু মিয়া নামের দুজন মাদক ব্যবসায়ীকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সাজাপ্রাপ্ত দুজন হলেন- নেত্রকোনার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের দশআশি গ্রামের মৃত আব্দুল হেকিমের ছেলে পলাশ মিয়া এবং একই জেলার কেন্দুয়া উপজেলার শাগলী গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে টিটু মিয়া।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের দশআশি গ্রামে এ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে নেতৃত্ব দেন মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বেদবতী মিস্ত্রী।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, সাজাপ্রাপ্ত পলাশ মিয়া নিজ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদক বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বুধবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নেত্রকোনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল দশআশি গ্রামে অভিযান চালায়।
অভিযান চলাকালে পলাশ মিয়া ও টিটু মিয়াকে মাদক সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে দুইশো গ্রাম গাঁজা এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
আসামিদের হাতেনাতে আটকের পর ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অপরাধের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বেদবতী মিস্ত্রী ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আটককৃত উভয়কে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং আটশো টাকা জরিমানা প্রদান করেন।
অভিযানকালে নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আল আমিনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেদবতী মিস্ত্রী জানান, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে ধরে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও আটশো টাকা জরিমানা করা হয়েছে। যুবসমাজকে রক্ষা করতে ও এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে আমাদের এ ধরনের ঝটিকা অভিযান ও আইনি পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
দণ্ডাদেশ প্রদানের পর আজ (বুধবার) বিকেলেই আসামিদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পড়ুন- আমিও অনলাইন ক্লাস চাই না, কিন্তু পৃথিবী চায়: শিক্ষামন্ত্রী


