বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনায় মাদরাসায় ক্লাসরুম খোলা, উধাও শিক্ষক-শিক্ষার্থী!

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নে অবস্থিত বিষ্ণুপুর মোহসিনিয়া দাখিল মাদ্রাসায় চরম প্রশাসনিক অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে শিক্ষকদের ইচ্ছেমতো আসা-যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, দাখিল পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চলার কথা। ১৯৬৪ সালে প্রস্তাবিত এই প্রতিষ্ঠানটিতে সেই নিয়মের কোনো বালাই নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষকরা নির্ধারিত সময়সূচি একেবারেই অনুসরণ করেন না। অধিকাংশ শিক্ষক সকাল ১১টার দিকে মাদ্রাসায় আসেন এবং অল্প সময় পার করেই দুপুর ১টার আগে বাড়ি ফিরে যান। নির্ধারিত সময়ে ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষা থেকে মারাত্মকভাবে বঞ্চিত হচ্ছে।

সোমবার (৪ মে) দুপুরে সরেজমিনে মাদ্রাসাটিতে গিয়ে এক হতবাক করা চিত্র দেখা যায়। সরকারি কর্মদিবস হওয়া সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর উপস্থিতি চোখে পড়েনি। খোলা অবস্থায় অরক্ষিত পড়ে ছিল একাধিক ক্লাসরুম ও স্টাফরুম। স্টাফ কক্ষে টেবিলের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, খাতা ও কলম। বেশ কিছুক্ষণ পর সেখানে কেবল প্রতিষ্ঠানের পিয়নের দেখা মেলে।

মাদ্রাসার প্রশাসনিক নজরদারি একেবারেই দুর্বল বলে দাবি স্থানীয়দের। পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিয়মিত প্রতিষ্ঠানটিতে আসেন না বা কোনো খোঁজখবর রাখেন না।

মাদ্রাসার পাশের বাড়ির বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “এই মাদ্রাসা সকাল বেলা কিছু সময় খোলা থাকে, এরপর আর শিক্ষক বা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত দেখা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলছে। দেখার মতো কেউ নেই বললেই চলে।” তার মতে, দায়িত্বশীলদের নজরদারির অভাবেই পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।

নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের। ‍“এভাবে চলতে থাকলে সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে তলিয়ে যাবে”- এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে অনেক অভিভাবক ইতোমধ্যেই তাদের সন্তানদের জন্য বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছেন।

এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে বিষ্ণুপুর মোহসিনিয়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান শিক্ষক উপস্থিতি ও নিয়মিত ক্লাস না হওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, “রবিবার ছাত্রছাত্রী না থাকায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।” তবে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছিল কি না- এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে কলমাকান্দা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরে আলম বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং এটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত করে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন