বিজ্ঞাপন

পরীক্ষার প্রস্তুতি সভায় অনুপস্থিত, ইউএনওর সাথে দুর্ব্যবহার

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, দায়িত্বে চরম অবহেলা এবং ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সোমবার (২০ এপ্রিল) জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেছেন পূর্বধলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসনীম জাহান।

ইউএনও দাপ্তরিক পত্র ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্য আজ (সোমবার) সকাল ১১টায় ইউএনও কার্যালয়ে ট্যাগ অফিসার ও ভিজিল্যান্স টিমসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি সভা ডাকা হয়েছিল।

গুরুত্বপূর্ণ এ সভায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবু বকর সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন না এবং বারবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরবর্তীতে সভা শেষে দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি ইউএনও কার্যালয়ে উপস্থিত হন। দেরিতে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি ভারপ্রাপ্ত ইউএনওর সাথে রাগান্বিত হয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন।

দাপ্তরিক পত্রে শিক্ষা কর্মকর্তার নিয়মিত দায়িত্ব অবহেলার চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। মো. আবু বকর সিদ্দিক গত প্রায় তিন বছর যাবৎ পূর্বধলা উপজেলায় কর্মরত আছেন এবং তিনি প্রতিদিন ময়মনসিংহ থেকে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। প্রতিদিন তিনি সকাল ১১টা বা ১২টায় অফিসে উপস্থিত হন এবং বিকাল ৩টায় কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এছাড়া, ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ এবং পহেলা বৈশাখের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোতেও তাকে কর্মস্থলে উপস্থিত পাওয়া যায়নি বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পূর্বধলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও তাসনীম জাহানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে তার এমন দেরিতে আসা এবং সামগ্রিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে নেত্রকোনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদ জানান, ইউএনও তাকে দুপুর ১২টার দিকে ফোন করে সভায় বিলম্ব এবং শিক্ষা কর্মকর্তার অনুপস্থিতির বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তখন তিনি ইউএনওকে এ বিষয়ে লিখিত প্রতিবেদন দেওয়ার পরামর্শ দেন।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আরও জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেককে নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে এবং জাতীয় দিবসগুলোতে অনুপস্থিত থাকা বা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবশ্যই বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নোয়াখালীতে মাশরুম চাষে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা, বাজার সংকটে হতাশ চাষী

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন