প্লাস্টিকের একটি চেয়ারে ভর দিয়ে কষ্টে কষ্টে হাঁটছেন ষাটোর্ধ্ব হুরমুজ আলী। শরীর ভাঙাচোরা, তবুও জীবনের তাগিদে থেমে নেই তার পথচলা। স্থানীয় বাজারে সামান্য প্রয়োজন মেটাতে এভাবেই প্রতিদিন সংগ্রাম করে চলেছেন তিনি।
জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ারচর গ্রামের মৃত বাহেজ পানাইতের ছেলে হুরমুজ আলী দীর্ঘদিন ধরেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন। চার মাস আগে ভ্যানগাড়ি থেকে পড়ে গিয়ে তার পাঁজরের হাড় ফেটে যায়। অর্থাভাবে যথাযথ চিকিৎসা না করাতে পারায় দিন দিন শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।
ভিটেমাটি না থাকায় বর্তমানে অন্যের আশ্রয়ে বসবাস করছেন তিনি। জীবনের কঠিন বাস্তবতায় কখনো কারো কাছে হাত পাতেননি—নিজের শ্রমেই জীবিকা নির্বাহ করেছেন। কিন্তু এখন অসুস্থ শরীর আর আগের মতো সাড়া দিচ্ছে না। চিকিৎসা তো দূরের কথা, দুই বেলা খাবার জোগাড় করাও হয়ে উঠেছে দুঃসাধ্য।
এক জোড়া ক্রাচ (ক্যাচ) কেনার সামর্থ্যও নেই তার। ফলে প্লাস্টিকের চেয়ারই এখন তার ভরসা। দাম্পত্য জীবনে তিন সন্তানের জনক হলেও তারা সবাই নিজ নিজ সংসারে ব্যস্ত, আর্থিকভাবে অক্ষম হওয়ায় বাবাকে সহায়তা করতে পারছেন না।
স্থানীয়রা জানান, হুরমুজ আলী একজন আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন মানুষ। জীবনের প্রতিটি ধাপে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবার চালিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে তার করুণ অবস্থা দেখে সহমর্মিতা প্রকাশ করছেন সবাই। তারা মনে করেন, সরকারি বা বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে তার জীবন কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সুরুজ মাস্টার বলেন, “তিনি অত্যন্ত অসহায় একজন ব্যক্তি। তাকে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার জন্য আরও সহায়তা প্রয়োজন।”
মানবিক সহায়তার প্রত্যাশায় দিন গুনছেন হুরমুজ আলী—একটু চিকিৎসা, একটু সহায়তা আর বেঁচে থাকার ন্যূনতম নিশ্চয়তার আশায়।
পড়ুন- ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে অভিযোগ থাকলে আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারে: ইইউ নির্বাচন মিশন


