ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। তেলের জন্য রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে দিন-রাত মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ সারি এখন প্রতিদিনের চিত্র। জ্বালানি নিতে আসা এই যানবাহনের সারি মূল সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, যা পুরো শহরের যাতায়াত ব্যবস্থাকে অচল করে দিচ্ছে। পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের প্রভাবে সড়কে যানজট, ভোগান্তির শেষ কোথায়?কয়েক লিটার তেলের জন্য কর্মঘণ্টা বিসর্জন দিয়ে মানুষের এই অন্তহীন প্রতীক্ষা কেবল রাজধানীতেই নয়; ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশের মহাসড়কেও।
শুক্রবার সরেজমিন দেখা যায়, বাড্ডা, খিলখেত, পল্টন, মহাখালী বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন এলাকা, তেজগাঁও, মগবাজার, আজিমপুর, নীলক্ষেত, গুলিস্তান ও মতিঝিলের ১২টি পেট্রোল পাম্প ঘুরে ১০টির সামনে গাড়ির দীর্ঘ জট দেখা যায়। কোথাও কোথাও গাড়ির সারি প্রধান সড়কের একাধিক লেন দখল করে ফেলেছে।
উত্তর বাড্ডার একটি পাম্পে প্রতিদিন গাড়ী ও মটরসাইকেলেরর দীর্ঘলাইন লেগে থাকে। যে কারণে এ রাস্তার জ্যাম পুরো রামপুরা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবারও এ যানজটের কমতি নেই। এমন দুর্ভোগ আসলে শেষ কবে? এ প্রশ্নের উত্তর কেউ দিতে পারছে না। সরকার বলছে তেল আছে। কিন্তু পাম্পে নেই। মানুষ বিরক্ত ও উত্তেজিত।
মৎস্য ভবন এলাকার ফিলিং স্টেশনে সকাল থেকেই গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে। পাম্প থেকে শুরু হয়ে শিল্পকলা পেরিয়ে প্রেস ক্লাব-পল্টন সড়কে সে সারি উঠে যায়। এতে সড়কের এক লেন পুরো বন্ধ হয়ে যায়। এতে মৎস্য ভবন, সেগুনবাগিচা, হাইকোর্ট, পল্টনসহ পুরো এলাকার সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেকেই ভোর সাড়ে ৫টা থেকে অপেক্ষা করেও তবু তেল পাইনি। এখানে দাঁড়িয়েই সময় যাচ্ছে। আবার রাস্তায় যানজট। উভয় দিকেই ভোগান্তি।
মতিঝিলের মধুমিতা হলের পাশের পেট্রোল পাম্পের গাড়ির সারি ইত্তেফাক মোড় পেরিয়ে গোপীবাগের দিকে চলে গেছে। এর ফলে মতিঝিলসহ দিলকুশা এলাকায় তীব্র জট সৃষ্টি করেছে। তেজগাঁও থেকে মহাখালী পর্যন্ত একাধিক পাম্প থাকায় এই এলাকায় যানজট আরও প্রকট আকার নিয়েছে। মহাখালী থেকে শুরু করে মগবাজার মৌচাক ফ্লাইওভার পর্যন্ত গাড়িগুলো গতকাল দুপুর থেকেই যানজটে আটকে থাকতে দেখা যায়।
জ্বালানি সরবরাহে টানাপোড়েনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি যেন কমছেই না। চাহিদার তুলনায় তেল সরবরাহ কম থাকায় রাজধানীর পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ, মাগুরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের অদিকাংশ এলাকার পাম্পেই সৃষ্টি হয়েছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। কোথাও কোথাও তেলের সারির দৈর্ঘ্য কয়েক কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আবার অনেক পাম্পে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অর্ধশতাধিক পাম্পের বেশির ভাগই পর্যাপ্ত সরবরাহ না পেয়ে আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ। একই চিত্র মাগুরায়। ভোর থেকে সারিতে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন মানুষ। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিজেলের সংকটে কৃষি খাতেই দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা। সেচের পানি না পেয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে ফসলের জমি।
এদিকে ঢাকায় ফুয়েল পাস চালু থাকলেও তেমন সুফল মিলছে না। নির্ধারিত পাম্পেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। অনেক ক্ষেত্রে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় পাসধারীরাও পড়ছেন অনিশ্চয়তায়।
দেশের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের পাঠানো চিত্রও বলে দিচ্ছে তেলের জন্য মানুষের কত হাহাকার। কিন্তু আজ শুক্রবারও সরকারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেছে, ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি তেলের মজুদ আছে দেশে। তাহলে তেলের সংকট কেন কাটছে না? এ প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।
পড়ুন : দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী


