বিজ্ঞাপন

প্রধান শিক্ষকের অবহেলা: এডমিট কার্ড না পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় বসতে পারল না শিক্ষার্থী

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের গাফিলতির কারণে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি এক শিক্ষার্থী। ফরম ফিলাপ, কেন্দ্র ফি ও অন্যান্য বকেয়া পরিশোধ করার পরও তাকে এডমিট কার্ড দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত শরীফ বেপারী শ্রীপুর উপজেলার বেড়াইদেরচালা এলাকার “হলি স্টার চাইল্ড একাডেমি”র প্রধান শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. রোমান একই এলাকার বাসিন্দা হারুন অর রশিদের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শরীফ বেপারী ওই কিন্ডারগার্টেন স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা । শিক্ষার্থী রোমান দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে পড়াশোনা করে আসছিল। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার জন্য সে ফরম ফিলাপ, কেন্দ্র ফি এবং স্কুলের সকল বকেয়া পরিশোধ করলেও নির্ধারিত সময়ে তাকে এডমিট কার্ড দেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী রোমান জানান, “আমি ক্লাস ওয়ান থেকে এই স্কুলে পড়ি। আমাদের রেজিস্ট্রেশন স্থানীয় আলহাজ্ব ধনাই বেপারী মেমোরিয়াল স্কুল থেকে করা হয়। আমার সহপাঠীরা তিন-চার দিন আগেই এডমিট কার্ড পেয়েছে। আমি বারবার চাইলেও স্যার পরে দেওয়ার কথা বলেন। শেষ পর্যন্ত পরীক্ষার আগের দিনও আমাকে এডমিট দেওয়া হয়নি।”

তিনি আরও জানান, “এডমিট কার্ড নেওয়ার জন্য গেলে আমাকে বকেয়া বেতন ও কেন্দ্র ফি বাবদ ৪৮৫০ টাকা দিতে বলা হয়। টাকা দেওয়ার পরও রাতে জানানো হয় যে এডমিট আসেনি। এতে আমার ১০ বছরের পড়াশোনা ও স্বপ্ন ভেঙে গেছে।”

রোমানের পিতা হারুন অর রশিদ বলেন, “প্রধান শিক্ষক নিজেই আমার ছেলেকে এডমিট কার্ড আনতে যেতে বলেন। কিন্তু পরে সেটি না দিয়ে নানা অজুহাত দেন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে হুমকিও দেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয় অভিভাবক আরিফুল ইসলাম বলেন, “কিন্ডারগার্টেন স্কুলের নামে অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়মনীতি না মেনে চলছে। এর খেসারত দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক শরীফ বেপারী বলেন, “রোমান টেস্ট পরীক্ষায় কয়েকটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তাই তার এডমিট কার্ড আসেনি।”

টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি শুধু বকেয়া বেতন নিয়েছি।” এর বেশি বক্তব্য দিতে আমি বাধ্য নই।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, “এ ধরনের কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠানের কারণে প্রায়ই শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আগে যদি আমার সাথে যোগাযোগ করত তাহলে হয়তো একটা ব্যবস্থা করা যেত। আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : গাজীপুরে অবৈধ জ্বালানি মজুদে অভিযান, জরিমানা ও বিক্রি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন