চট্টগ্রামে বিআরটিএ’র এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে জাল শিক্ষাগত সনদে চাকরি, অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও এ নিয়ে কেউ মুখ খুলছেনা বরং লুকাচুরিই করছে। অভিযুক্ত মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বর্তমানে বান্দরবান বিআরটিএ কার্যালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১২ সালে তিনি বিআরটিএতে যোগদান করেন এবং দীর্ঘ সময় চট্টগ্রাম কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ পাওয়ার পর দায়িত্ব পালনকালে ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন, নাম্বার প্লেট প্রদান এবং মালিকানা পরিবর্তন সংক্রান্ত সেবায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি।
এছাড়া বদলি বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, জামাল উদ্দিন নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীর বাসায় কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে ২০১২ সালে একরামুল করিম চৌধুরীর সহযোগিতায় এবং তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর ওবায়দুল কাদেরের কোটায় তিনি বিআরটিএতে অফিস সহকারী পদে নিয়োগ পান বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রাম বিআরটিএতে কর্মরত ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, বিআরটিএর একটি প্রভাবশালী চক্রের সহায়তায় বান্দরবান কার্যালয়ে তার ‘সেভ পোস্টিং’ হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছে।
প্রতিষ্ঠানটির চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মো. মাসুদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সময় চান। পরে তার কার্যালয়ে গেলে তিনি জরুরি মিটিংয়ের কথা বলে অফিস ত্যাগ করেন।
সহকারী পরিচালক ওমর ফারুকের কাছে বক্তব্য নিতে গেলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। পরে মাসুদ আলম ফোন করে কি কি প্রশ্ন তা লিখিত আকারে পাঠাতে বলেন এই প্রতিবেদকে।
বান্দরবান বিআরটিএ অফিসে জামাল উদ্দিনের পোস্টিং হলে তিনি অফিস করেন না বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে, অভিযুক্ত জামাল উদ্দিনের দাবি, তিনি চট্টগ্রামের অনেক সাংবাদিকের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে পরে জানাবেন বলে বললেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বিআরটিএ বান্দরবান কার্যালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, জামাল উদ্দিন অফিসে থাকেন না। তবে সহকারী পরিচালক (এডি) কামরুজ্জামান বলেন, তিনি অসুস্থতার কারণে অফিসে আসতে পারছেন না। পরে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।
মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সচেতন মহলও দাবি করছে, এই ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যেন জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হয়
পড়ুন:সংরক্ষিত নারী আসনে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা
দেখুন:৪৮ ঘন্টা সময় দিলো ইরান
ইমি/


