রংপুর থেকে চিকিৎসা শেষে ফেরার কথা ছিল বাড়িতে আপনজনদের কাছে,পরিচিত উঠোনে, স্বস্তির নিঃশ্বাসে। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। পথেই সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যান বাবা মেয়েসহ ৪ জন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত কাল ২৮ এপ্রিল রাতে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বাঁশেরতল ব্যাপারীর হাট এলাকায়।মাইক্রোবাস ও পাথর বোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন ৪ জন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান,গতকাল ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ব্যাপারীর হাটের বাঁশেরতল এলাকায় মাইক্রোবাসটি যখন ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই বিপরীত দিক থেকে ছুটে আসা পাথরবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে ঘটে মুখোমুখি সংঘর্ষ। মুহূর্তেই থেমে যায় সবকিছু। বিকট শব্দ, ছিন্নভিন্ন লোহা, আর অসহায় মানুষের আর্তচিৎকার—এক নিমিষেই আনন্দের ফেরার পথ রূপ নেয় মৃত্যুপুরীতে।
ঘটনাস্থলেই ঝরে যায় তিনটি প্রাণ। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও, জীবনযুদ্ধ হেরে পথে আরও একজন ঢলে পড়েন মৃত্যুর কোলে। এভাবে চারটি প্রাণ নিভে যায় এক রাতেই।
নিহতরা হলেন, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আসাদমোড় উত্তর তিলাই গ্রামের মো. মনির হোসেনের মেয়ে মোছা. ছাদিয়া (৮), মো. জাহিদুল ইসলামের ছেলে মো. নুরনবী (২৮), শামিম (২৮), ও ধলডাঙ্গা গ্রামের মো. সাইফুর রহমানের ছেলে মো. লিমন (২৮)। তাদের মধ্যে লিমন পেশায় চালক বলে জানা গেছে।
নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক গল্প শামীম হোসেন ও তার আট বছরের কন্যা সাদিয়াকে ঘিরে। মাত্র ১৬ দিন আগে বাবা হয়েছিলেন শামীম। অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন রংপুরে। স্বপ্ন ছিল—সুস্থ মেয়েকে নিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। বাবা ও মেয়ে—দুজনই ফিরলেন, তবে জীবিত নয়; পাশাপাশি কবরের নিস্তব্ধতায়।
স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। যে বাড়িতে ফেরার কথা ছিল, সেই বাড়িতেই এখন শোকের মাতম। স্ত্রীর বুকফাটা আহাজারি, মায়ের নিথর দৃষ্টিতে অবিশ্বাস—সব মিলিয়ে এক অসহনীয় বাস্তবতা।
স্থানীয় ইউপি চেয়্যারম্যান জানান, এটি শুধুই একটি সড়ক দুর্ঘটনা নয়—এটি কয়েকটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের গল্প, ভবিষ্যৎ থেমে যাওয়ার এক নির্মম অধ্যায়।
নাগেশ্বরী থানার কর্মকর্তা ওসি আব্দুল্লাহ হীল জামান জানান, প্রথমে নিহতের সংখ্যা ছিল তিনজন, পরে তা বেড়ে চারজনে দাঁড়ায়। দুর্ঘটনার পর থেকেই এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
পড়ুন : লালমনিরহাটে মাদক মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানের কারাদণ্ড


