রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার ৪৯নং দেবগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার পপিকে হেনেস্তার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে রাজবাড়ী জেলার শিক্ষক সমাজ।
রবিবার বিকেল ৩ টার দিকে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি রাজবাড়ী জেলা শাখার আয়োজনে রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ-সভাপতি আঞ্জুমান আরা বেগম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাজমুল ইমাম, গোয়ালন্দ উপজেলা শাখার সভাপতি বাবর আলী, সাধারণ সম্পাদক নাসরিন আক্তার ইতি, গোয়ালন্দ উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, কালুখালী উপজেলার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান গগণ, কালুখালী বি বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিক্ষক জুলফিকুর রহমান, সদর উপজেলার সভাপতি নাসরিন আক্তার, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামসহ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
এ সময় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,-গোয়ালন্দ উপজেলার ৪৯ নং দেবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার পপি দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার কারনে ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গত মাসের ২৬ এপ্রিল বিদ্যালয়ে পাঠ চলাকালে চরবরাট গ্রামের শরিফুল সরদার বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাকে গর্ভকালীন ভাতা এর ফরম স্বাক্ষর করতে বলেন। প্রধান শিক্ষক তাকে লাইব্রেরীতে অপেক্ষা করতে অনুরোধ করেন। কিন্তু সে অপেক্ষা না করে সেখানেই ওই ফরমে স্বাক্ষর করতে বলে এবং প্রভাব খাটিয়ে জোর-জবরদস্তি করে।
প্রধান শিক্ষক ওই ফরম অসম্পূর্ণ থাকায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ চান। এতে ওই ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ‘তুই তুকারি’ করে, ধমকের সাথে কথা বলে, অশ্রাব্য ভাষায় গালি-গালাজ করে। এতে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। তিনি নানাভাবে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে তারা উভয়ই বিদ্যালয়ের মাঠে নেমে আসেন। মাঠে উৎসুক জনতা ভীড় করে। জনতা ও শিক্ষার্থীদের সামনে মাঠে পড়ে থাকা গাছের ডাল ভেঙ্গে ওই শিক্ষককে মারতে উদ্যত হয়। উপস্থিত জনতা ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। ওই যুবক প্রধান শিক্ষককে “দেখিয়ে দেব, চাকুরী করা ছুটিয়ে দেব” বলে হুমকি প্রদান করে। এতে করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পতিত হয়।বক্তারা আরও বলেন, ওই যুবক রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা প্রদান করার মতো দন্ডনীয় অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে আমরা মনে করি। আমরা এই নেক্কারজনক কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকসহ সকল শিক্ষকের কার্যক্ষেত্রে নিরাপত্তার দাবী জানাচ্ছি। মানববন্ধন শেষে শিক্ষকেরা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
পড়ুন : বাজিতপুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ল ৮ দোকান, ক্ষতি প্রায় ৮০ লাখ


