যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির সম্ভাব্য ভূমিকা তদন্তের আওতায় এনেছে কর্তৃপক্ষ। ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেয়াইর স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ এপ্রিল) জানিয়েছেন, তার দপ্তর ওপেনএআই–এর বিরুদ্ধে চলমান তদন্তে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ)-এর এই হত্যাকাণ্ড যুক্ত করছে।
হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়েহ-এর বিরুদ্ধে তার রুমমেট জামিল লিমন ও তার বন্ধু নাহিদা বৃষ্টিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিহত দুজনই ছিলেন বাংলাদেশি এবং বয়স ছিল ২৭ বছর। আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ১৬ এপ্রিল তাদের সর্বশেষ জীবিত দেখা যায়। পরে লিমনের মরদেহ একাধিক প্লাস্টিক ব্যাগে করে ফেলে দেয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আরেকটি মরদেহের খণ্ডিত অংশ কাছাকাছি জলাশয় থেকে উদ্ধার করা হলেও সেটির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ঘটনার কয়েক দিন আগে সন্দেহভাজন ব্যক্তি চ্যাটজিপিটিকে একাধিক প্রশ্ন করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল- ‘কাউকে কালো গার্বেজ ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দিলে কী হয়?’ আগ্নেয়াস্ত্র ও গাড়ির পরিচয় সংক্রান্ত প্রশ্ন, ‘নিখোঁজ ঝুঁকিপূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক’ বলতে কী বোঝায়?
এই তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্তকারীরা মনে করছেন, অপরাধ পরিকল্পনায় প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার ছিল। জেমস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেয়াইর বলেন, ‘প্রধান সন্দেহভাজন চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছেন—এই তথ্য জানার পর আমরা ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে আমাদের ফৌজদারি তদন্ত সম্প্রসারণ করছি।’
তবে ওপেনএআই–এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এটি একটি ভয়াবহ অপরাধ। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানাই এবং তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করব।’
বর্তমানে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি (পূর্বপরিকল্পিত) হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের দায় কতটা প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তাবে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

