বিজ্ঞাপন

‘সবার রক্তই লাল, আমরা সবাই বাংলাদেশি’: পুরোহিতদের সঙ্গে সাক্ষাতে ডেপুটি স্পীকার

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি বলেছেন, “সবার পরিচয় আমরা মানুষ, আমাদের সবার রক্তই লাল। কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে খ্রিষ্টান বা কে বৌদ্ধ- তার ঊর্ধ্বে উঠে আমরা সবাই বাংলাদেশি।” অতীতে রাষ্ট্রীয় সেবাকে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হলেও, তিনি ভেদাভেদ ভুলে দলমত নির্বিশেষে সবার পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পীকারের কার্যালয়ে তার নির্বাচনী এলাকার (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) ব্রাহ্মণ পুরোহিত সম্প্রদায়ের ১২ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পীকার পুরোহিতদের খোঁজখবর নেন এবং অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলাকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ও স্বচ্ছ ধারণা অর্জন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে সবাইকে সংসদ ভবন পরিদর্শন এবং অধিবেশন দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

তিনি জানান, আজকের ব্রাহ্মণ পুরোহিত প্রতিনিধিদলের আগে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়, ইমাম, হাজং সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদল এবং দুর্গাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও সংসদ ভবন পরিদর্শন করেছেন।

সংসদ ভবনে আসার সুযোগ করে দেওয়ায় এবং দুর্গাপুরের সন্তান হিসেবে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার নিযুক্ত হওয়ায় ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

১২ সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন- বীরেশ্বর চক্রবর্তী, মিন্টু ভাদুরী, অপরেশ চক্রবর্তী, গৌতম চক্রবর্তী, বিমল চৌধুরী, উৎপল শর্মা, রতন শর্মা, সুজয় শর্মা, মানিক চক্রবর্তী, কেশব লাল চক্রবর্তী, সজয় চক্রবর্তী এবং সমরেশ চক্রবর্তী।

পুরোহিতরা জানান, হিন্দু সম্প্রদায় হিসেবে তারা অনেক সময়ই নানা অবহেলার শিকার হয়েছেন। তবে বর্তমান ডেপুটি স্পীকারের সার্বিক সহযোগিতায় তারা দুর্গাপুরের উন্নয়নে সমানভাবে অংশগ্রহণ করে সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান। এ সময় তারা ডেপুটি স্পীকারকে ‘রাজা’ সম্বোধন করে তার মঙ্গল কামনায় পবিত্র গীতা পাঠ করেন এবং ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন। সম্মাননা স্বরূপ তাকে ‘উত্তরণী’ উপহার দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিনিধিদলটি এলাকার পূজামণ্ডপ সংস্কার, পুরোহিত ভাতা চালু এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তার অংশগ্রহণের বিনীত আহ্বান জানান।

পুরোহিতদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আশ্বাস দিয়ে বলেন, এলাকার মন্দিরের জন্য বরাদ্দ প্রদানে ভবিষ্যতে বিন্দুমাত্র অবহেলা করা হবে না। ব্রাহ্মণ পুরোহিত সম্প্রদায়ের কল্যাণে যা যা প্রয়োজন, তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মসজিদ, মন্দির ও গির্জার জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত অর্থের যাবতীয় তথ্য এখন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

এছাড়া আলোচনার একপর্যায়ে যুব সমাজকে অবক্ষয় ও মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দূরে রাখতে পড়ালেখা, খেলাধুলা এবং সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা জোরদার করার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন ডেপুটি স্পীকার।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : কালবৈশাখীতে ঘরহারা বিধবা, মনোয়ারার কান্না শুনলেন ডেপুটি স্পিকার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন