বিজ্ঞাপন

সরকারের দুই মাস : কী পেলাম আর কী হারালাম?

চব্বিশের জুলাইয়ে মানুষ জেগে উঠেছিল অপশাসন আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে। স্লোগানে স্লোগানে নতুন করে দেশ গড়ার আত্মান্বেষণে নেমেছিল মানুষ। দেয়াললিখন-গ্রাফিতিতে নতুন বাংলাদেশের গল্প বলতে চেয়েছিল জেন-জিরা। স্বপ্ন দেখছিল দুঃসময় পেরিয়ে নতুন এক ভোরের। কিন্তু মানুষের সেই অঙ্গীকার বা স্বপ্নের কথা কতটা শুনতে পেল শাসকরা কিংবা রাষ্ট্রকাঠামো? কী পেলাম আমরা ২ মাসে? যদিও একটি নতুন সরকারের কাছে চাওয়া-পাওয়ার হিসাব নেওয়ার সময় এখনও আসেনি। তারপরও শুরুটা দেখেই বোঝা যায় সামনে কী অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।

নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সরকারের আসার পরপরই জাতীয় সংসদের দিকে তাকিয়ে ছিল মানুষ। বিশেষ করে জুলাই সনদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলো নিয়ে বিএনপি সরকার কী উদ্যোগ নেয়। কিন্তু আমরা দেখলাম সবই হচ্ছে কিন্তু বাদ গেল দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, গণভোট অধ্যাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ২০টি অধ্যাদেশ চলতি অধিবেশনে অনুমোদন করা হলো না। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশসহ চারটি অধ্যাদেশ বাতিল করার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। অন্য ১৬টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে সংসদে এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তী সময়ে যাচাই–বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ সংসদে হুবহু বিল আকারে তোলা এবং ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংসদে বিল তোলার জন্য সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি। অন্য ২০টির মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। চারটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য এখনই সংসদে বিল আনয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

এতো গেল বিশাল আকারের বিশাল পদক্ষেপের কথা। কিন্তু সাধারণ মানুষ চাই সুশাসন, মানুষের সহজ জীবন প্রণালী। কিন্তু সরকারের যাত্রা শুরু করার সময়ই কয়েকটি পদক্ষেপ আমাদের মর্মাহত করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর হিসেবে দলীয় লোককে নিয়োগ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে দলীয় লোক নিয়োগ। পাশাপাশি আমরা দেখেছি, সারা দেশের স্থানীয় সরকার ব্যাবস্থাতেও দলীয়করণের নগ্ন পদক্ষেপ। এগুলো মানুষের কাছে ভালো বার্তা দিচ্ছে না।

আবার আমরা দেখলাম বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)তে নির্বাচিত বোর্ড ভেঙ্গে দেয়ার নজির। যেখানে কয়েকজন মন্ত্রীর ছেলেকে কমিটিতে বসিয়ে দেয়ার নজিরও দেখতে হলো। ক্রিকেটকে দলীয়করণের বাইরে রাখতে ব্যর্থ হলো এই সরকার। সামনে বোর্ডের নির্বাচনে কেমন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারে বর্তমান এডহক কমিটি-সেটা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তারপরও আমরা আশা ও স্বপ্ন দেখতে ছাড়ব না। আশা করি, নতুন সরকার ভুল শুধরে সামনে ভালো ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নিবে। বিশ্ব যেখানে টালমাটাল জ্বালানি সংকটে সেখানে বর্তমান সরকার কী ধরণের পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাবে সেটাই দেখার বিষয়।

এদিকে সরকারের ‘দুই মাস পূর্তি’ উপলক্ষে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গত দুই মাসের কার্যক্রম, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হতে পারে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও বক্তব্য দেওয়া হতে পারে। এ সম্মেলনে নিশ্চয়ই সুসংবাদ পাব আমরা।

সবশেষে একটাই চাওয়া, মানুষকে জুলাইয়ের প্রত্যাশা থেকে সরিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অভিমুখে না নিয়ে নির্বাচনের ভেতর দিয়ে আসা গণতান্ত্রিক সরকার মানুষের কথা ভাববেন। মানুষ যত ভালো থাকবেন দেশের মোড় বদল ঘটতে থাকবে তত।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : চৈত্রসংক্রান্তির বার্তাতেই পাওয়া যায় বাংলা নববর্ষের আগমনের ছোঁয়া

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন