দেশের সকল স্কুল ও কলেজগুলোতে অগ্নি ও ভূমিকম্প সুরক্ষা ব্যবস্থার অভাব ও এর গুরুত্ব বিবেচনায়, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সালেহা ফেরদৌস সিদ্দিকি।
৫ সেপ্টেম্বর ডাক ও ইমেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে এ নোটিশ প্রদান করেন অ্যাডভোকেট সালেহা ফেরদৌস সিদ্দিকি।
নোটিশটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (এফএসসিডি), জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে বিবাদীদের কারণ দর্শানোর আহ্বান জানানো হয়েছে, কেন তারা নিম্নলিখিত বিষয়গুলি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন:
১. সকল স্কুলে নিয়মিত অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্প মহড়া। ২. উদ্ধার, দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া এবং প্রাথমিক চিকিৎসা/সিপিআর সম্পর্কিত বার্ষিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ। ৩. শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যক্রমের মধ্যে নিরাপত্তা পাঠ। ৪. স্কুল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন। ৫. অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অ্যালার্ম, নিরাপদ প্রস্থান এবং প্রাথমিক চিকিৎসা কিট স্থাপন। ৬. বিএনবিসি ২০২০ অনুসারে ভূমিকম্প এবং বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিরীক্ষা।
শিশুরা প্রতিদিন প্রতিরোধযোগ্য বিপদের মুখোমুখি হচ্ছে, তার প্রমাণ হিসেবে নোটিশে সাম্প্রতিক ট্র্যাজেডির উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ড (২০২৪), মাইলস্টোন স্কুলের জেট দুর্ঘটনা (২০২৫) এবং সিলেটের কম্পন (২০২১)।
অ্যাডভোকেট সালেহা ফেরদৌস সিদ্দিকি বলেন, “প্রত্যেক শিশুর নিরাপদ শিক্ষার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তবুও আমাদের স্কুলগুলো অনুশীলন, প্রশিক্ষণ বা উপযুক্ত সরঞ্জাম ছাড়াই মৃত্যু ফাঁদ হিসেবে রয়ে গেছে। সরকার অবিলম্বে পদক্ষেপ না নিলে, বাংলাদেশ আরেকটি গণবিপর্যয়ের ঝুঁকিতে পড়বে। যদি কোনও পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে আমি জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) এর মাধ্যমে মাননীয় হাইকোর্টে যাব।”
পাঠানো নোটিশে কর্তৃপক্ষকে ১৫ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে। তা না হলে, সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে বিষয়টি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সামনে উপস্থাপন করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
পড়ুন : শাহ আবদুল করিমের গান অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের অভিযোগে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ


