বিজ্ঞাপন

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বালু মহাল নিয়ে চক্রের দৌরাত্ম্য, ১২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় খোয়াই নদীর বালু মহালকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের একটি চক্র সরকারের প্রায় ১২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই চক্রকে জেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা সহায়তা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি খোয়াই নদীর সাধারণ বালু মহালের দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তৃতীয় ধাপে গত ৮ এপ্রিল সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ভ্যাট ও আয়করসহ ২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় চুনারুঘাটের রাজার বাজার অংশের বালু মহালটি পায় রাহী ট্রেডার্স।

অভিযোগ উঠেছে, রাহী ট্রেডার্স নির্দিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়েই বালু উত্তোলন ও বিক্রি শুরু করে। সম্প্রতি ইজারায় অংশ নেওয়া অন্যান্য মহালদার ও বিএনপির নেতারা রাহী ট্রেডার্সের বালুবাহী ৫টি ট্রাক আটকে দিয়ে প্রশাসনকে খবর দেন। পরে চুনারুঘাট উপজেলা প্রশাসন ও থানা-পুলিশ ট্রাকগুলো জব্দ করে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, লোকসানের আশঙ্কায় মহালের ইজারাদার লিপি আক্তারের স্বামী আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম মিয়া একটি চক্রের দ্বারস্থ হন। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতাকর্মীর সমন্বয়ে গঠিত চক্রের প্রায় একশ সদস্য স্থানীয় ‘মুসলিম হল’ এ পরপর তিন দিন বৈঠক করেন।

বৈঠকে উপস্থিত একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাহী ট্রেডার্সের সঙ্গে চক্রের সমঝোতা হয়েছে। এখন প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সরকারের প্রায় ১২ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতাসহ ক্রমানুসারে তিনটি লাইসেন্স বাছাই করা হয়। সর্বোচ্চ দরদাতা অপারগতা প্রকাশ করলে তার জমাকৃত ২৫ শতাংশ টাকা বাজেয়াপ্ত হয় এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা ইজারা পান।

অভিযোগ উঠেছে, রাহী ট্রেডার্স মহালটি না চালালে নিয়ম অনুযায়ী দ্বিতীয় দরদাতা এবিসি বিল্ডার্সের পাওয়ার কথা। কিন্তু প্রশাসনের কয়েকজনকে ‘সন্তুষ্ট করে’ তৃতীয় দরদাতা দিপন মিয়াকে ভ্যাট-ট্যাক্স ছাড়া প্রায় ১১ কোটি টাকার বিনিময়ে বালু মহালটি পাইয়ে দিতে চক্রের সদস্যরা একমত হয়েছেন। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মবহির্ভূতভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলার কারণে নদী রক্ষা বাঁধ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগও বাড়ছে।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী ইজারাদার যদি সরকারি অর্থ দিতে ব্যর্থ হন, তবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা ওই বালু মহালের ইজারা পাবেন। সরকার যাতে রাজস্ব না হারায় সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রয়েছে।”

পড়ুন: বাস ভাড়া বাড়লো কিলোমিটারে ১১ পয়সা

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন