বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনলাইন সেবার দুয়ার খুলেছে বেশ আগেই। খুলনা অফিসে অনলাইনের মাধ্যমে সেবা গ্রহণ প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ হলেও দালালের ওপর নির্ভরতা কমছে না সেবাগ্রহীতাদের। ভোগান্তির ভয়, সময়ের সংকট আর সার্ভার সমস্যার কারণে অনেকেই অতিরিক্ত টাকা খরচ করে দালালের সহায়তায় ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস নবায়নের মতো কাজ করছেন। সরকারি ডিজিটাল সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছালেও সচেতনতা ও আস্থার অভাব কাটাতে পারলেই দালাল নির্ভরতা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খুলনা বিআরটিএ অফিস সূত্রে ও সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন শতাধিক মানুষ এসব সেবা নিতে আসেন। একসময় একটি কাজের জন্য পাঁচ-ছয়বার অফিসে আসতে হতো, এখন বেশিরভাগ কাজ একদিনেই সম্পন্ন হচ্ছে। তবে বাস্তবে অনেকেই সরাসরি সেবা গ্রহণ না করে অফিসের বাইরে বিভিন্ন দোকানে দালালের শরণাপন্ন হচ্ছেন। ফলে একটি পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে খরচ হচ্ছে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্র্যন্ত। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, অনলাইন আবেদন সহজ হলেও সার্ভার সমস্যার কারণে প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। তাছাড়া ভোগান্তির ভয় আর সময়ের সংকট তো রয়েছে।
কয়রা উপজেলা থেকে আসা আব্দুর রউফ বলেন, নিজে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে গেলে অনেক জটিলতা দেখা দেয়। তাই মাধ্যম ধরলেই কাজ সহজ হয়। ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে তার চুক্তি হয়েছে সাড়ে ১১হাজার টাকা। একইভাবে সাকিব নামের আরেক গ্রাহক জানান, বাদামতলা মোড়ের একটি দোকানের মাধ্যমে লাইসেন্স করতে তার খরচ হয়েছে ৮ হাজার টাকা। আরেক গ্রাহক মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমি অতো শিক্ষিত না। বাটন মোবাইল চালাই। আমরা তেমন বুঝি না বলেই ওনাদের মাধ্যমে আমরা কাজ করাই। সামনে দোকানের মাধ্যমে ৯হাজার টাকা চুক্তি হইছে।
রামপাল থেকে আসা মো. আক্তার আলী শেখ বলেন, ভোগান্তিতো অবশ্যই হচ্ছে। অনেক দূর থেকে আসছি হেবি লাইসেন্সের জন্য ফিঙ্গার দিতে। সার্ভার সমস্যায় দুপুর পার হয়ে গেলো সকাল থেকেই বসে আছি। বায়োমেট্রিক দিতে পারছি না।
তবে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন অনেকে। খুলনা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আফনান বলেন, এবার আসার পর দেখি প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়েছে। একদিনেই কাজ শেষ। আরেক শিক্ষার্থী আহমেদ ইমতিয়াজ রাফি জানান, শোরুমের মাধ্যমে বাইক রেজিস্ট্রেশন করায় তাকে কোনো ভোগান্তি পোহাতে হয়নি।
এছাড়া সেবাগ্রহীতারা যে শুধু যে দালাল-শোরুমের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা ব্যয়ে কাজ করছেন, এমনটি নয়। সচেতন কেউ কেউ নিজেই অনলাইনের সেবা গ্রহণ করেছেন। তাতে কোন ভোগান্তি পোহাতে হয়নি। মো. নুরুল আমিন নামের একজন বলেন, আমি অনলাইনের মাধ্যমে গাড়ির ফিটনেস নবায়নের সব কাজ করেছি। ব্যাংকে নির্ধারিত ফি ছাড়া কোথাও কোনো টাকা পয়সা দিতে হয়নি।
খুলনা বিআরটিএ সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বলেন, এখন কোনো গ্রাহক কিছু না বুঝলেও ডিজিটাল হেল্প ডেস্ক থেকে সহায়তা নিতে পারেন। আগে যেখানে লাইসেন্স পেতে ছয়বার আসতে হতো, এখন একদিনেই পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম শেষ হয়ে যায়।
বিভাগীয় পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন এখন শোরুমের মাধ্যমেই হচ্ছে। শুধু বায়োমেট্রিক দেওয়ার দিন গ্রাহককে আসতে হয়। গাড়ির ফিটনেসও অনলাইনে যেকোনো জায়গায় নবায়ন করা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সার্ভার সমস্যার কারণে কিছুদিন কার্যক্রম ব্যাহত হলেও দ্রুত স্বাভাবিক হবে। দালাল নির্ভরতা কমাতে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় অফিসসংলগ্ন দোকান মালিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যাতে তারা অতিরিক্ত অর্থ না নেন এবং গ্রাহকদের হয়রানি না করেন। পাশাপাশি, এ কার্যক্রমকে আইনের আওতায় আনার বিষয়েও সরকার চিন্তাভাবনা করছে।
পড়ুন: সুনামগঞ্জ সীমান্তের ওপারে মেঘালয় থেকে ৪ বাংলাদেশি আটক
দেখুন: সাগর, বন্যপ্রাণী আর সবুজের সমারোহে নয়নাভিরাম সুন্দরবন |
ইম/


